তবে নিয়মিত পরিচর্যা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও কিছু অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে শীতেও ত্বকের স্বাভাবিক কোমলতা ও সতেজতা ধরে রাখা সম্ভব।
পর্যাপ্ত পানি পান করুনশীতকালে তৃষ্ণা কম অনুভূত হওয়ায় অনেকেই পানি পান কমিয়ে দেন। এতে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা ত্বকের স্বাভাবিক অবস্থায়ও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। ব্যক্তিভেদে পানির চাহিদা ভিন্ন হলেও দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে পানি, ফলমূল, শাকসবজি ও স্যুপ রাখা উপকারী।
পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় বাদাম, তিল ও ফ্ল্যাক্সসিডের মতো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ খাবার রাখা যেতে পারে। গাজর, টমেটো, পালংশাক ও অন্যান্য পুষ্টিকর সবজি ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
ত্বক পরিষ্কারে সতর্কতাশীতকালে ত্বক পরিষ্কারের জন্য মৃদু ও সুগন্ধিমুক্ত ফেসওয়াশ ব্যবহার করা ভালো। অতিরিক্ত ক্ষারযুক্ত সাবান কিংবা বেশি ফেনা তৈরি করে এমন ক্লিনজার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমিয়ে শুষ্কতা বাড়াতে পারে।
মুখ ধোয়া বা গোসলের পর ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। ত্বক সামান্য ভেজা থাকা অবস্থায় ময়েশ্চারাইজার লাগালে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়।
শুষ্ক ও স্বাভাবিক ত্বকের জন্য তুলনামূলক ঘন ক্রিম এবং তৈলাক্ত ত্বকের জন্য হালকা জেল বা লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে উপযোগী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলেও ত্বকের শুষ্কতা কমাতে সহায়তা পাওয়া যায়।
অতিরিক্ত গরম পানি এড়িয়ে চলুনশীতের সকালে গরম পানিতে দীর্ঘক্ষণ গোসল করতে অনেকেরই ভালো লাগে। কিন্তু অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের স্তর নষ্ট করে শুষ্কতা বাড়াতে পারে।
তাই গোসলের জন্য ঈষদুষ্ণ পানি ব্যবহার করা ভালো। গোসলের সময়ও দীর্ঘ না করে ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে সীমিত রাখা উচিত। গোসল শেষে শরীর আলতোভাবে মুছে দ্রুত ময়েশ্চারাইজার বা উপযোগী বডি লোশন লাগাতে হবে।
শীতেও সানস্ক্রিন জরুরিঅনেকের ধারণা, শীতকালে সূর্যের তাপ কম থাকায় সানস্ক্রিন ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। কিন্তু এটি সঠিক নয়। মেঘলা দিনেও সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘদিন সুরক্ষা ছাড়া রোদে থাকলে ত্বকে কালচে দাগ ও অকাল বার্ধক্যের ঝুঁকি বাড়ে।
তাই বাইরে যাওয়ার আগে কমপক্ষে এসপিএফ ৩০-যুক্ত ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার করা ভালো। বাইরে দীর্ঘসময় থাকলে পণ্যের নির্দেশনা অনুযায়ী পুনরায় সানস্ক্রিন লাগাতে হবে।
ঠোঁট ও পায়ের গোড়ালির বাড়তি যত্নশীতকালে ঠোঁটের ত্বক দ্রুত শুষ্ক হয়ে ফেটে যেতে পারে। এ সময় বারবার জিব দিয়ে ঠোঁট ভেজানোর অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ এতে ঠোঁটের শুষ্কতা আরও বাড়তে পারে। ঠোঁট কোমল রাখতে পেট্রোলিয়াম জেলি, শিয়া বাটার বা উপযোগী লিপবাম ব্যবহার করা যেতে পারে।
অন্যদিকে, পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়া শীতের পরিচিত সমস্যা। এ সমস্যা কমাতে রাতে পা পরিষ্কার করে ভালোভাবে শুকিয়ে ঘন ময়েশ্চারাইজার বা ভ্যাসলিন লাগানো যেতে পারে। এরপর সুতির মোজা পরে ঘুমালে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সুবিধা হয়।
নিয়মিত পরিচর্যায় থাকুক ত্বকের সতেজতাশীত মানেই ত্বকের শুষ্কতা নয়; বরং এই সময়ে প্রয়োজন একটু বাড়তি যত্ন ও সচেতনতা। পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, ত্বকের ধরন অনুযায়ী ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা—এসব অভ্যাস ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক।
তবে ত্বকে অতিরিক্ত চুলকানি, প্রদাহ, ফাটল বা দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিয়মিত পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনেই শীতজুড়ে ত্বকের কোমলতা ও সতেজতা ধরে রাখা সম্ভব।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স