৭ নভেম্বরেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচিত হয়: খন্দকার মারুফ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৩৩ বিকাল
  • ৮৫৫৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
দাউদকান্দি ও মেঘনায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনা সভায় বক্তব্য

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বেই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি রচিত হয়েছিল। সেদিন সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী ষড়যন্ত্র প্রতিহত করেছিল।

শনিবার (৭ নভেম্বর) কুমিল্লার দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের পৃথক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর ছিল শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন। এদিন জিয়াউর রহমানকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল। সততা, সাহসিকতা, নেতৃত্বগুণ ও জাতীয়তাবোধের কারণে তিনি মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। তিনি নিজেকে নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেননি; বরং পরিস্থিতির প্রয়োজনে স্বাভাবিকভাবেই নেতৃত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, বন্দিদশা থেকে মুক্ত হওয়ার পর ৭ নভেম্বর সকালে রেডিওতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে জিয়াউর রহমান বলেছিলেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশি এবং আমাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে রক্ষা করবে। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।’ তাঁর এ বক্তব্য জাতীয় ঐক্য ও স্বাধীনতা রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল।

বিএনপির এই নেতা অভিযোগ করেন, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার সিপাহী-জনতার অভ্যুত্থানকে অস্বীকার করেছে এবং ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করেছে। একই সঙ্গে শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের অবদান খাটো করার চেষ্টা করেছে। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় থাকাকালে আওয়ামী লীগ আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্র ধ্বংস করেছে।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া দেশে বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও টেকসই উন্নয়ন প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন। তাঁদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে কাজ করছেন।

খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে এগিয়ে নিতে তারেক রহমান দেশপ্রেম, সততা ও মানবিকতার সঙ্গে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনটি জনগণের শান্তি বিনষ্ট ও দেশকে অস্থিতিশীল করার নানা চেষ্টা করছে। পলাতক ব্যক্তিরা হুমকি-ধমকি দিয়ে পরিস্থিতি অশান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দেশপ্রেমিক জনগণ এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন। মেঘনার সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউএনও মৌসুমী আক্তার।

দুটি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেম, বিএনপি নেতা এমএ লতিফ ভূঁইয়া, নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, আ. অদুদ মুন্সী, জসিমউদ্দিন আহমেদ, ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, পিটার চৌধুরী, এম আবদুস সাত্তার, কাওসার আলম সরকার, কামাল হোসেন, এম সালাহউদ্দিন সরকার, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মেজবাহ উদ্দিন বায়েজিদ ও আব্বাস উদ্দিন কমান্ডারসহ স্থানীয় নেতারা।






কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad