ক্রিপ্টোকারেন্সি কেন ঝুঁকিপূর্ণ?

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২০ বিকাল
  • ৩১৯৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ক্রিপ্টোকারেন্সি
হ্যাকিংয়ের ঘটনায় বিটকয়েন-ইথেরিয়ামের দরপতন, উত্তর কোরীয় হ্যাকার গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স বড় ধরনের সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে প্ল্যাটফর্মটি থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার মূল্যের ডিজিটাল সম্পদ চুরি বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। ঘটনাটিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ সাইবার হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ডিজিটাল সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এ হামলার ঘটনা ঘটে। বাইন্যান্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের প্রায় অর্ধেক জব্দ করা সম্ভব হয়েছে। তবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সম্পদ এখনো হামলাকারীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গ্রাহকদের ক্ষতি পূরণেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বাইন্যান্সের এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমে হামলাকারীরা প্ল্যাটফর্মটির নিরাপত্তাব্যবস্থায় প্রবেশের সুযোগ পায়। ওই ল্যাপটপ ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়াই ডিজিটাল সম্পদ সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, এ হামলার সঙ্গে উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। টিআরএম ল্যাবস জানিয়েছে, হামলার ধরন ও কৌশলের সঙ্গে উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট আগের সাইবার হামলার মিল রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালে বাইবিট এক্সচেঞ্জে সংঘটিত বড় ধরনের হ্যাকিংয়ের ঘটনাও রয়েছে।

চেইনঅ্যানালাইসিসের গবেষকরাও এ হামলায় উত্তর কোরীয় হ্যাকার গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে হামলাকারীদের পরিচয় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।

জব্দ হয়েছে শত শত কোটি ডলারের সম্পদ

বাইন্যান্সের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় সাময়িকভাবে আমানত ও অর্থ উত্তোলন বন্ধ রাখা হয়। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ই হে জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অর্থ উত্তোলন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ক্রিপ্টোকারেন্সি ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠান টেথার ও সার্কেল চুরি হওয়া সম্পদের একটি বড় অংশ জব্দ করেছে বলে জানিয়েছে। টেথারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাওলো আরদোইনোর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর প্রতিষ্ঠান প্রায় ১৬০ কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে। অন্যদিকে সার্কেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেরেমি অ্যালেয়ার জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠান ৮০ কোটির বেশি ডলারের সম্পদ জব্দ করেছে।

বাইন্যান্স জানিয়েছে, জরুরি তহবিলসহ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে গ্রাহকদের ক্ষতি পূরণ করা হবে। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে গ্রাহকদের আস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

হ্যাকিংয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিটকয়েনের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমে যায়। ইথেরিয়াম ও সোলানাসহ অন্যান্য প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সির দামেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জগুলোতে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল সম্পদ জমা থাকে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠান সাইবার অপরাধীদের কাছে আকর্ষণীয় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। প্রচলিত ব্যাংকের মতো কঠোর নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও আমানত সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় এসব প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি বেশি।

ক্রিপ্টো অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল সেটেলমেন্ট নেটওয়ার্কের প্রধান নির্বাহী রায়ান কার্কলি বলেন, বাইন্যান্সের আর্থিক সক্ষমতা ক্ষতি সামাল দেওয়ার মতো হওয়া ইতিবাচক। তবে আর্থিক সক্ষমতা ও পরিচালনাগত নিরাপত্তা এক বিষয় নয়। বড় বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

কীভাবে নিজের ক্রিপ্টো সম্পদ সুরক্ষিত রাখবেন

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচার জন্য ব্যবহৃত এক্সচেঞ্জে দীর্ঘ সময় সম্পদ জমা না রেখে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের জন্য নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে থাকা ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করা যেতে পারে।

তবে ব্যক্তিগত ওয়ালেট ব্যবহারেরও ঝুঁকি রয়েছে। এর পাসওয়ার্ড বা গোপন প্রবেশসংকেত হারিয়ে গেলে সম্পদ পুনরুদ্ধার করা কঠিন, এমনকি অসম্ভবও হতে পারে। চেইনঅ্যানালাইসিসের ২০২১ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তৈরি হওয়া মোট বিটকয়েনের প্রায় ২০ শতাংশ এমন ওয়ালেটে হারিয়ে গেছে বা আটকে রয়েছে, যেগুলোতে সংশ্লিষ্ট মালিকেরা আর প্রবেশ করতে পারছেন না।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহার সাইবার অপরাধের কৌশলকে আরও জটিল করে তুলছে। চেইনঅ্যানালাইসিসের গবেষকদের দাবি, বাইন্যান্সে হামলার পর অল্প সময়ে হাজার হাজার লেনদেনের মাধ্যমে চুরি করা অর্থের গতিপথ আড়াল করতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

বাইন্যান্স জানিয়েছে, হামলাকারীদের শনাক্ত এবং তাদের বিচারের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad