অনলাইন আয়ের প্রলোভনে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, ব্রহ্মগাছায় ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবার

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৭ দুপুর
  • ১৩১০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ব্রহ্মগাছা এলাকায় অনলাইনে আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিক পরিবারের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মুন্নী নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতিদিন অনলাইনে আয় করার আশ্বাস দিয়ে তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। এতে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।


ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে অনলাইনে আয়ের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে এলাকার সহজ-সরল ও অসচ্ছল নারীদের আকৃষ্ট করা হয়। তাঁদের বলা হয়, একটি অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইনে কাজ করে প্রতিদিন আয় করা সম্ভব। এ জন্য প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে বলা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে আরও টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।


ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের বাসুরিয়া গ্রামে মোতালেবের স্ত্রী তাসলিম বেগম বলেন, “আমার স্বামী একাই সংসার চালান। সংসারে অনেক কষ্ট হয়। ভেবেছিলাম, আমিও কিছু আয় করতে পারলে পরিবারের অবস্থার উন্নতি হবে। এ সময় মুন্নী নামের এক নারী আমাদের পাড়ায় এসে অনলাইনে কাজ করে প্রতিদিন আয় করার কথা বলেন। তাঁর কথায় বিশ্বাস করে প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে ৪ হাজার ৯৯০ টাকা দিয়ে একটি অ্যাপস নিই। এভাবে বিভিন্ন সময়ে আমার কাছ থেকে মোট ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।”


একই গ্রামের জোসনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “আমার কাছ থেকে ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। আমার মতো আরও অনেকের কাছ থেকেই টাকা নেওয়া হয়েছে। এতে আমাদের গ্রামের অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”


ভুক্তভোগীদের দাবি, অনলাইনে আয়ের আশায় টাকা দিয়ে তাঁরা এখন চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের অনেকের সংসারে দেখা দিয়েছে আর্থিক সংকট। তাঁরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাঁদের অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুন্নীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


ভুক্তভোগীদের কয়েকজন এ ঘটনায় রায়গঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।


এ বিষয়ে রায়গঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম খান বলেন, “আমি বিষয়টি তদন্ত করে জানিয়ে দেব।”


ভুক্তভোগীদের আকুল আবেদন, অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad