নাশতা কম আনার অভিযোগে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে মারধর, ৯ দিন পর মৃত্যু

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৭ দুপুর
  • ৩২৪৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাবার বাড়ি থেকে হাতে তৈরি নাশতা কম আনার অভিযোগে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ সিফাতুন নূর সিফাতকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

নিহতের মা জুহিনুর আক্তার এ ঘটনায় পটিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাশতা নিয়ে বিরোধ, মারধরের অভিযোগ

নিহত সিফাতুন নূর সিফাত (২২) চন্দনাইশ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকার মো. নূর ও জুহিনুর আক্তারের মেয়ে। পাঁচ মাস আগে পারিবারিকভাবে পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের পূর্ব কুসুমপুরা এলাকার ইলিয়াস খাঁ বাড়ির বাসিন্দা মো. তারেকের (২৬) সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তারেক দুবাইপ্রবাসী। বিয়ের কয়েক মাস পর তিনি বিদেশে চলে যান। এরপর সিফাত শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছিলেন।

নিহতের মায়ের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি নাশতা নিয়ে যান তিনি। নাশতার পরিমাণ কম হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে গালাগাল করা হয়। পরে আরও নাশতা এনে দেওয়ার কথা বললেও এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সিফাতের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম (৬০) তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ করেন জুহিনুর আক্তার।

তাঁর দাবি, ওই সময় তাঁকেও মারধর করা হয় এবং মা-মেয়েকে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়।

আইসিইউতে নয় দিন, পরে মৃত্যু

জুহিনুর আক্তার জানান, ১৪ অক্টোবর রাতে দুবাই থেকে তাঁর মেয়ের স্বামী ফোন করে সিফাতের শারীরিক অবস্থার অবনতির কথা জানান। পরে সিফাতকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

সিফাতের বাবা মোহাম্মদ নূর অভিযোগ করেন, মারধরের ঘটনার পর বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে তাঁর মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন—এমন ঘটনা সাজানো হয়েছিল।

তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পুলিশের

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক বলেন, গৃহবধূকে মারধরের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে তদন্তের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad