১৭ বছরেও হয়নি রাস্তা, দুর্ভোগ কমাতে ব্যক্তির উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো

  • এইচএম মোকাদ্দেস,নির্বাহী সম্পাদক
  • আপলোড সময় : ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৪ বিকাল
  • ৩১৪০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকায় প্রায় ১৭ বছর ধরে রাস্তা নির্মাণ না হওয়ায় দুর্ভোগে থাকা কয়েকশ পরিবারের চলাচলের সুবিধার্থে নিজস্ব অর্থায়নে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছেন হাজী মোহাম্মদ আলী ভূইয়া। চালা উত্তরপাড়া পতেঙ্গা মসজিদসংলগ্ন এলাকায় তাঁর এ উদ্যোগে সাময়িক স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। তবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চান এলাকাবাসী।

হাজী মোহাম্মদ আলী ভূইয়া মুকুন্দগাঁতী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক। তিনি বেলকুচি পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থীও। তাঁর দাবি, দেলুয়া, বোল্ডার বাজার ও পতেঙ্গাসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে নিজস্ব অর্থায়নে মোট ছয় থেকে সাতটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছেন।

৫০০ থেকে ৭০০ পরিবারের চলাচলে স্বস্তি

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ১৭ বছর ধরে রাস্তাটি নির্মাণ না হওয়ায় তাঁদের প্রতিদিন নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কোথাও জমে থাকা পচা পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। এতে দৈনন্দিন কাজ, বাজারে যাতায়াতসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ভোগান্তি পোহাতে হয় তাঁদের।

এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, চালা উত্তরপাড়া পতেঙ্গা মসজিদসংলগ্ন সাঁকুটি দিয়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ পরিবারের মানুষ চলাচল করেন। চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের যাতায়াতেও এলাকাটির যোগাযোগব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি নির্মাণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সময়ে পরিদর্শন ও আশ্বাস দেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় দুর্ভোগ নিয়েই চলাচল করতে হয়েছে তাঁদের।

নিজ উদ্যোগে একাধিক সাঁকো নির্মাণ

হাজী মোহাম্মদ আলী ভূইয়া বলেন, “নিজস্ব অর্থায়নে দেলুয়া, বোল্ডার বাজার ও পতেঙ্গাসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে মোট ছয় থেকে সাতটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিয়েছি। আমার উদ্দেশ্য হলো, সাধারণ মানুষ যেন কোনো ঝামেলা ছাড়াই যাতায়াত করতে পারেন এবং ভোগান্তির শিকার না হন। মানুষের চলাচলের কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে আমি সামর্থ্য অনুযায়ী এ উদ্যোগ নিয়েছি।”

তিনি জানান, সাধারণ মানুষ ও চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের যাতায়াতের সমস্যা বিবেচনায় নিয়ে এসব সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সাঁকো নির্মাণের ফলে আগের তুলনায় চলাচল সহজ হয়েছে। আগে জমে থাকা পানির মধ্য দিয়ে চলতে গিয়ে যে সমস্যায় পড়তে হতো, এখন সাঁকো ব্যবহার করে সেই ভোগান্তি কিছুটা কমেছে। তবে তাঁদের মতে, এটি স্থায়ী সমাধান নয়।

স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের দাবি

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত রাস্তাটি নির্মাণ এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করবে। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিরসনে শুধু অস্থায়ী সাঁকো নয়, প্রয়োজন টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা। এতে চালা উত্তরপাড়া ও পতেঙ্গা মসজিদসংলগ্ন এলাকাসহ আশপাশের চরাঞ্চলের শত শত পরিবারের চলাচল আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।

হাজী মোহাম্মদ আলী ভূইয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বেলকুচি পৌরসভার প্রথম প্রশাসক হাজী জামাল উদ্দিন ভূইয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি মুকুন্দগাঁতী বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বেলকুচি পৌরসভার মেয়র পদপ্রার্থী।

তথ্যসূত্র: স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, হাজী মোহাম্মদ আলী ভূইয়ার বক্তব্য এবং প্রতিবেদকের সরবরাহ করা তথ্য।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad