সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সিরাজগঞ্জে বিআরটিএর সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg সিরাজগঞ্জে বিআরটি
সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং নিরাপদ সড়ক চলাচল নিশ্চিত করতে সিরাজগঞ্জে সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড ও মহাসড়ক এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বিআরটিএ সিরাজগঞ্জ সার্কেল ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে ভিডিও চিত্র প্রদর্শন, রোড ক্যাম্পেইন, মাইকিং, ব্যানার প্রদর্শন এবং লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে চালক, যাত্রী ও পথচারীদের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়।

অভিযানটি সিরাজগঞ্জের এম এ মতিন বাসস্ট্যান্ড, মির্জা মোরাদুজ্জামান বাসস্ট্যান্ড এবং সয়দাবাদ-কড্ডার মোড় মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় পরিচালিত হয়।

চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহ্বান

প্রচার অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিআরটিএ সিরাজগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) আবু নাঈম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক তাজুল ইসলাম, মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট আল ইমরান, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং অফিস সহকারী আব্দুল মতিন।

নিরাপদ সড়ক চাই সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি নতুন শিরাজী, সিনিয়র সহসভাপতি আবুল হাসনাত হিটু, সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম ও আব্দুর শুকুর, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মমিন সরকার, সহসাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন হিমেল ও মীর মাসুদ রানা রিপনসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনা অনুসন্ধান ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক সেরাজুল ইসলাম রানা, ক্রীড়া সম্পাদক সেলিম মণ্ডল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মনিরা খাতুন, প্রচার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক এবং যুববিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

অভিযান চলাকালে চালকদের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, নিয়োগপত্র ও হালনাগাদ গাড়ির কাগজপত্র সঙ্গে রাখা এবং চালকের পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর গাড়ির দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে ট্রাফিক আইন ও নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, নিষিদ্ধ এলাকায় ও সরু সেতুতে ওভারটেকিং না করা, উল্টো পথে গাড়ি না চালানো এবং রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়ে সচেতন করা হয়।

মালিকদের দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ

মোটরযান মালিকদের প্রতি দক্ষ ও উপযুক্ত চালক নিয়োগ, চালকদের নিয়োগপত্র প্রদান এবং কর্মঘণ্টার নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। প্রচার কার্যক্রমে বলা হয়, কোনো চালককে একটানা পাঁচ ঘণ্টা বা দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করা যাবে না। গাড়িতে নির্ধারিত আসনসংখ্যা বজায় রাখার পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত ও অতিরিক্ত ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন সড়কে না নামানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। উচ্চ শব্দের বা হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়।

মোটরসাইকেল চালকদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা

মোটরসাইকেল চালকদের চালকসহ অনুমোদিত সংখ্যার বেশি আরোহী বহন না করা, চালক ও আরোহী উভয়ের হেলমেট ব্যবহার, বৈধ ও হালনাগাদ কাগজপত্র নিশ্চিত করা এবং বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ নম্বরপ্লেট ছাড়া মোটরসাইকেল না চালানো এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ও ইয়ারফোন ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

অভিযানে যাত্রী ও পথচারীদেরও ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং নির্ধারিত নিয়মে সড়ক পারাপারের পরামর্শ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, চালক, মালিক, যাত্রী ও পথচারী—সবার সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যসূত্র: আয়োজকদের দেওয়া তথ্য ও কর্মসূচিসংক্রান্ত বিবরণ।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad