গণভোটের রায় উপেক্ষা করাই ফ্যাসিবাদের পথ: গোলাম পরওয়ার

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৪ দুপুর
  • ৫৬৫৬ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণ ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ জামায়াতের

গণভোটের রায় উপেক্ষা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক নিয়োগ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে দুর্নীতি ও দলীয়করণ চালিয়ে যাওয়াকে ফ্যাসিবাদের পথ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার। তাঁর অভিযোগ, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে জনগণের সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে পাশ কাটিয়ে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণের দিকে এগোচ্ছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় রাজধানীতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিষয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটে জনগণ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। কিন্তু সরকার সেই রায় বাস্তবায়ন না করে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে। জনগণের মতামত উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনার এমন প্রবণতা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পথ তৈরি করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিএনপির সমালোচনা

জামায়াত জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে না—বিএনপির এমন অভিযোগকে হাস্যকর বলে আখ্যা দেন গোলাম পরওয়ার। তাঁর দাবি, জামায়াতসহ ১১ দলের জোট গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন করছে। অন্যদিকে বিএনপি গণভোটের রায় কার্যকর না করে তা অস্বীকার করছে এবং বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে।

তিনি বলেন, সরকারের সাত মাসের কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছে। এর দায় অন্যের ওপর চাপানোর চেষ্টা চলছে। সাংবিধানিক পদসহ সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোক বসানোরও অভিযোগ করেন তিনি।

বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগের বিষয়ে সাম্প্রতিক তৎপরতার সমালোচনা করে গোলাম পরওয়ার বলেন, দলীয়করণের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছিলেন। অথচ এখন সেই চেতনার পরিপন্থী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।

রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে বিরোধের অভিযোগ

সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, নিজেদের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতের অবস্থানে অনড় থেকে বিএনপি রাষ্ট্র সংস্কারের পথে বাধা সৃষ্টি করছে। তাঁর অভিযোগ, সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের মাধ্যমে বর্তমান কাঠামো বহাল রাখার চেষ্টা চলছে।

গোলাম পরওয়ারের দাবি, সংবিধানের কাঠামোগত সংস্কার না হলে ভবিষ্যতে যে দলই সরকার গঠন করুক, প্রধানমন্ত্রীর হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। তিনি বলেন, গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট সংবিধান সংস্কারের পক্ষে পড়েছে। জনগণের সেই রায় উপেক্ষা করে সংস্কারপ্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়।

ওসমানী উদ্যানের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণপত্র নিয়ে আপত্তি

ওসমানী উদ্যানে একটি অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতার যোগ না দেওয়া নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে বিরোধীদলীয় নেতার নাম উল্লেখ না করাকে অসম্মানজনক মনে করা হয়েছে। সেখানে প্রতিমন্ত্রীদের নাম থাকলেও বিরোধীদলীয় নেতার নাম ছিল না বলে তাঁর দাবি।

রুলস অব প্রেসিডেন্স অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদার অধিকারী উল্লেখ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, যথাযথ সম্মান না দেওয়ার কারণেই তিনি অনুষ্ঠানে যাননি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে অসত্য ও হাস্যকর আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানান তিনি।

দুর্নীতি ও দলীয়করণ নিয়ে সরকারের সমালোচনা

গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সরকার দুর্নীতি ও দলীয়করণের সমালোচনাকে রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করছে। বিরোধী দলের আন্দোলন ও সমালোচনাকে ‘জুলাইবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, সরকারি পদে দলীয় লোক বসানো এবং জনগণের রায় উপেক্ষা করা ফ্যাসিবাদের লক্ষণ। আওয়ামী লীগের শাসনামলে যে ধরনের কর্মকাণ্ড দেখা গেছে, বিএনপিও একই পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বিরোধী দলের আন্দোলন উপেক্ষা করে সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করছে, যা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফিরে আসার পথ সহজ করতে পারে।

জামায়াতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের জোটের অভিযোগ নাকচ

আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের জোট করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো জোট করেনি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার দাবিতে জাতীয় পার্টি, বাম দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আন্দোলন করেছে দলটি।

১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তৎকালীন বিএনপির কর্মকাণ্ডের কারণে দলটি ক্ষমতায় ফিরতে পারেনি এবং আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসেছিল বলে তিনি মনে করেন। সে সময় স্বচ্ছ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ওয়াজ মাহফিল ও মাদরাসার কমিটি নিয়েও অভিযোগ

জামায়াতের নেতা আমীর হামজার ওয়াজ মাহফিলের অনুমতি বাতিল এবং রাজশাহীর একটি সম্মেলন বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে গোলাম পরওয়ার বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগ আমলেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।

এ ছাড়া প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মাদরাসার ব্যবস্থাপনা কমিটি ভেঙে দিয়ে দলীয় লোক নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সরকারের বরাদ্দ থেকে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বঞ্চিত করা এবং অনির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যদের নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর কর্তৃত্ব করার সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিরোধীদলীয় নেতাকে নিয়ে ভবিষ্যতে অসত্য তথ্য উপস্থাপন না করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারের কথিত দুর্নীতি, দলীয়করণ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করার বিরুদ্ধে জামায়াতের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ২০ অক্টোবরের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad