প্রজাপতি পা দিয়ে স্বাদ নেয়

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৭ দুপুর
  • ২৫৯০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
ফুলে বসেই খাবার চেনার বিস্ময়কর কৌশল প্রকৃতির এই রঙিন পতঙ্গের

রঙিন ডানা মেলে ফুলে ফুলে উড়ে বেড়ানো প্রজাপতি প্রকৃতির অন্যতম মনোমুগ্ধকর পতঙ্গ। তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর রয়েছে এক বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য। মানুষের মতো জিহ্বা দিয়ে নয়, বরং পায়ের বিশেষ সংবেদনশীল কোষের সাহায্যে খাবারের স্বাদ শনাক্ত করতে পারে প্রজাপতি। এভাবেই ফুল বা পাতায় বসে সেটি খাবার হিসেবে উপযুক্ত কি না, তা বোঝার চেষ্টা করে।

প্রজাপতির জীবনচক্রও বেশ চমকপ্রদ। ডিম থেকে শুঁয়োপোকা, এরপর পিউপা এবং সবশেষে পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি—ধাপে ধাপে এই রূপান্তর ঘটে। জীবনচক্রের এই পরিবর্তনের পাশাপাশি খাবার শনাক্ত করার বিশেষ ক্ষমতাও প্রজাপতিকে অন্য অনেক প্রাণী থেকে আলাদা করেছে।

পায়ে রয়েছে বিশেষ সংবেদী কোষ

প্রজাপতির পায়ে কেমোরিসেপ্টর (Chemoreceptor) নামে বিশেষ রাসায়নিক সংবেদী কোষ থাকে। এসব কোষ পরিবেশে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান শনাক্ত করতে পারে এবং স্নায়ুতন্ত্রের মাধ্যমে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়।

কোনো ফুল, পাতা বা অন্য পৃষ্ঠে বসার পর প্রজাপতি তার পায়ের সংবেদী অঙ্গের সাহায্যে সেখানকার রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে তথ্য পায়। সেই সংকেত বিশ্লেষণ করে খাবারটি উপযুক্ত কি না, তা নির্ধারণে সহায়তা পায়।

খাবার চেনার বিশেষ কৌশল

প্রজাপতির পায়ের রাসায়নিক সংবেদী কোষ খাবারের উপাদান শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মাধ্যমে তারা উদ্ভিদের উপযুক্ত অংশ বেছে নিতে পারে এবং ডিম পাড়ার জন্য উপযুক্ত গাছ শনাক্ত করতেও সাহায্য পায়।

তবে প্রজাপতির স্বাদ শনাক্ত করার ক্ষমতা শুধু মানুষের মতো মিষ্টি, তিক্ত, টক বা লবণাক্ত স্বাদ বোঝার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রজাতি ও সংবেদী কোষের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন রাসায়নিক সংকেত শনাক্ত করার ক্ষমতায় পার্থক্য থাকতে পারে।

প্রজাপতির পায়ের এই বিশেষ সংবেদনব্যবস্থা প্রকৃতির অভিযোজনের এক অনন্য উদাহরণ। ছোট্ট এই পতঙ্গের শরীরের গঠন ও সংবেদনশীলতা কীভাবে তার খাদ্য নির্বাচন ও বেঁচে থাকার প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখে, তা থেকেই বোঝা যায় প্রকৃতির বৈচিত্র্য কতটা বিস্ময়কর।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad