পুলিশি প্রতিবেদন না পাওয়ায় গোদাগাড়ীতে আমির হামজার তাফসির মাহফিল বন্ধ

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৪ বিকাল
  • ৩৭৬৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার অংশ নেওয়ার কথা থাকা তাফসিরুল কুরআন মাহফিলের অনুমতি দেয়নি উপজেলা প্রশাসন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে মাহফিলটি আয়োজনের কথা থাকলেও পুলিশের নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রতিবেদন না পাওয়ায় অনুমতি দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছে প্রশাসন। ফলে শেষ পর্যন্ত মাহফিল আয়োজন থেকে সরে এসেছেন আয়োজকেরা।

রোববার (১৮ অক্টোবর) আয়োজক সংগঠন মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাহফিল বন্ধ রাখার মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আমন্ত্রিত অতিথিদের ফোন করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে মাঠে নির্মাণাধীন প্যান্ডেলও গুটিয়ে নেওয়া হয়েছে।

অনুমতির জন্য আবেদন, মেলেনি ছাড়পত্র

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, মানব কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে গোদাগাড়ী মহিলা কলেজ মাঠে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এ উপলক্ষে গত কয়েক দিন ধরে গোদাগাড়ীসহ আশপাশের এলাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। মাঠে বড় প্যান্ডেল নির্মাণের কাজও চলছিল।

মাহফিলে সভাপতিত্ব করার কথা ছিল রেলবাজার দারুস সুন্নাহ ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু মুহাম্মদ বজলুর রহমান মাদানীর। প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবুর রহমানকে। স্থানীয় জামায়াত নেতা ওবাইদুল্লাহরও অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। প্রধান আলোচক হিসেবে নির্ধারিত ছিলেন সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা।

আয়োজকেরা জানান, মাহফিলের অনুমতি চেয়ে গত ১৩ অক্টোবর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর আবেদন করা হয়। পরে শনিবার সকালে অনুমতির বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাঁরা। তবে পুলিশের প্রতিবেদন না আসায় অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয় বলে তাঁদের জানানো হয়।

পুলিশি প্রতিবেদন ছাড়া অনুমতি নয়

গোদাগাড়ীর ইউএনও ইসরাত জাহান জানান, বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়—এমন অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশি ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত অনুমতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয়।

মানব কল্যাণ পরিষদের সভাপতি ইসমাইল হক বলেন, পুলিশের নিরাপত্তাসংক্রান্ত প্রতিবেদন না আসায় ইউএনও অনুমতি দিতে অপারগতা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় তাঁরা মাহফিল আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অতিথিদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে প্যান্ডেলও খুলে ফেলা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহীর পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মামুন অর রশিদ জানান, মাহফিলের বিষয়ে তিনি অবগত নন। উপজেলা বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে কোনো প্রতিবেদন চাওয়া হয়ে থাকলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad