সরেজমিনে দেখা যায়, কালভার্টটির দুই পাশের সুরক্ষাদেয়াল ও ভিত্তির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। নিচের মাটি সরে গিয়ে ইটের স্তূপ তৈরি হয়েছে। কালভার্টের মূল স্ল্যাবটি কয়েকটি সরু গাছের খুঁটির ওপর কোনো রকমে ঠেস দিয়ে রাখা হয়েছে। সংযোগস্থলে চলাচলের জন্য কাঠ ও গাছের ডাল বিছিয়ে অস্থায়ী সাঁকোর মতো ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় কালভার্টটি পুরোপুরি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ, দুর্ভোগে চার হাজার মানুষ
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে কালভার্টের সংযোগ সড়কের মাটি সরে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেরণরছড়ি ও আশপাশের এলাকার মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
এতে স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও অটোরিকশাচালকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত
কালভার্টটির বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আলহেরা মাদরাসা, টইটং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টইটং উচ্চ বিদ্যালয় ও বনকানন এশাতুল উলুম দাখিল মাদরাসার শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ভঙ্গুর কালভার্ট পারাপারের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠাতে উদ্বিগ্ন থাকেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
দ্রুত নতুন কালভার্ট নির্মাণের দাবি
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুল খালেক জানান, কালভার্টটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ কাঠামো অপসারণ করে সেখানে স্থায়ী ও টেকসই নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা জরুরি।
টইটং ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মাস্টার জয়নাল আবদীন বলেন, কেরণরছড়ির কালভার্টটি স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি দ্রুত সংস্কারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, জনদুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সরেজমিন পরিদর্শন করে কালভার্টটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নিক।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক