চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৮ দুপুর
  • ৬৬৫০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা ও এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে বিশেষ ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ চালাচ্ছে পৌরসভা। জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গঠিত আটটি টিম প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে। এসব অভিযানে সড়ক, নালা-নর্দমা ও আশপাশের আবর্জনা পরিষ্কারের পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব ও বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা পানিতে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত ও ধ্বংস করা হচ্ছে।

পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১৫টি ওয়ার্ডে এক দিন পরপর পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বাসিন্দাদের সচেতন করতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, রেড ক্রিসেন্ট ও স্কাউটস সদস্যসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এসব কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।

বাড়ির ছোট পাত্রেও মিলছে লার্ভা

পৌরসভার পাঁচ নম্বর টিমের দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. নাইমুল হক বলেন, ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরুর পর থেকেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করা হচ্ছে। অপরিচ্ছন্ন এলাকায় স্প্রে মেশিনে কীটনাশক এবং ফগার মেশিনে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি মহল্লায় অভিযান চালানো হয়েছে।

সাত নম্বর টিমের সদস্য জাকির হোসেন পিংকু জানান, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লা ও অলিগলিতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানোর পাশাপাশি মাইকিং ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দুই নম্বর টিমের সদস্য মো. আসাদুল্লাহ বলেন, তিন সপ্তাহের অভিযানে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের অর্ধশত বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। আইসক্রিমের খালি কাপে জমে থাকা পানিতেও লার্ভা শনাক্ত হয়েছে। শান্তিবাগ ও ফকিরপাড়ায় লার্ভার উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

বাসাবাড়িতে বেশি ঝুঁকি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. একেএম শাহাব উদ্দীন বলেন, ড্রেন বা বাইরের খোলা জায়গার তুলনায় বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব বেশি পাওয়া যাচ্ছে। ফুলদানি, গাছের টব, ফেলে দেওয়া চিপসের প্যাকেট ও ডাবের খোসায় জমে থাকা পানিতেও লার্ভা শনাক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীকে ডাব খাওয়ানোর পর খোসা ছাদে ফেলে রাখার ঘটনাতেও সেখানে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানুষের সচেতনতা সবচেয়ে জরুরি। জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌরসভা কাজ করলেও সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে এসব উদ্যোগের সুফল পাওয়া কঠিন হবে।

ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ ঘোষণার কথা পৌর কর্তৃপক্ষের

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন অর রশীদ বলেন, ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় পৌর এলাকায় ব্যাপক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। শিগগিরই এসব কার্যক্রমের ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তথ্যসূত্র: দৈনিক আমার দেশ, জেলা প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ; প্রকাশিত ১৫ অক্টোবর ২০২৬।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad