বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি গণমাধ্যমকে এসব কথা জানান।
অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর পদত্যাগ এবং ভবিষ্যতে চুয়েট ক্যাম্পাসে না ফেরার বিষয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের কোনো বক্তব্য তিনি দেননি।
ক্যাম্পাস ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, তাঁকে যখন ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন তিনি কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। অসুস্থতার কারণেই তাঁকে ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়েছিল। এখনো তিনি অসুস্থ এবং চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। সুস্থ হয়ে আবারও বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
২৩ দিন ধরে অচলাবস্থাএদিকে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার ঘটনার পর চুয়েট ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বুধবারও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদে পুনর্বহালের দাবিতে ধর্মঘট অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। চলমান অচলাবস্থা বুধবার ২৩তম দিনে গড়িয়েছে।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্তিসোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও ছিলেন।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ওই দিন দুপুর ১২টার মধ্যে উপাচার্যকে ক্যাম্পাস ত্যাগের আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ক্যাম্পাস না ছাড়ায় উপাচার্যসহ ১২ জন প্রশাসনিক ভবন-২-এ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে তাঁদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই রাতেই তাঁকে চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সহায়তায় উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিরা মুক্ত হন। তাঁদের মধ্যে বর্তমান ও সাবেক ছাত্রদল নেতাকর্মীরাও ছিলেন।
মুক্তির পর অসুস্থ উপাচার্যকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁকে ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে পরবর্তী সময়ে জানানো হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্যাম্পাসে ফেরা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যউপাচার্যকে মুক্তি দেওয়ার শর্ত হিসেবে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন, তাঁকে আর ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছিল। তবে এমন কোনো শর্তে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী গোলাম মোর্শেদ রাতুল বলেন, মঙ্গলবার তাঁরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, উপাচার্য আর ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবেন না—এই শর্তে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এরপরও উপাচার্য ক্যাম্পাসে ফেরার কথা বললে শিক্ষার্থীরা সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।
উপাচার্যের দায়িত্ব পালন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং ক্যাম্পাসে ফেরা নিয়ে দুই পক্ষের বিপরীত অবস্থানের কারণে চুয়েটে অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক