১২৩ বছরেও চশমা ছাড়া কুরআন পাঠ, সেই আব্বাস প্রামাণিক আর নেই

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৬ দুপুর
  • ২২৩১ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg আব্বাস প্রামাণিক
নাটোরের গুরুদাসপুরে ১২৩ বছর বয়সেও চশমা ছাড়া পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে পারা আব্বাস আলী প্রামাণিক আর নেই। সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী, মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ১২৩ বছর ৪ মাস। তবে পরিবারের দাবি, তাঁর প্রকৃত বয়স আরও বেশি।

আব্বাস প্রামাণিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর নাতি রিপন হোসেন। মৃত্যুকালে তিনি ছয় ছেলে, দুই মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি যোগেন্দ্রনগর গ্রামের মৃত সদর উদ্দিনের ছেলে।

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ বয়স সত্ত্বেও আব্বাস প্রামাণিক শারীরিকভাবে মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে রোববার (১১ অক্টোবর) হঠাৎ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। কথাবার্তায় অস্বাভাবিকতা দেখা দেওয়ার পর একপর্যায়ে তিনি কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেন।

পরে তাঁর চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা খুবজিপুর প্রবীণ সেবাকেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে সেবাকেন্দ্রের পক্ষ থেকে একজন চিকিৎসক পাঠানো হয় এবং তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

ধর্মচর্চা ও কুরআন শিক্ষায় কেটেছে জীবন

আব্বাস আলী প্রামাণিক পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিনা মূল্যে মানুষকে কুরআন শিক্ষা দিতেন তিনি। জীবনের দীর্ঘ সময় ধর্মচর্চা ও মানুষের সেবায় কাটিয়েছেন। বয়সের ভার কিংবা অসুস্থতা—কোনো অবস্থাতেই নামাজ ছাড়তেন না বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

তাঁর সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য ছিল, এত বেশি বয়সেও চশমা ছাড়াই পবিত্র কুরআন পড়তে পারা। স্বাভাবিক দৃষ্টিশক্তি বজায় রেখে কুরআনের পাতা উল্টে সাবলীলভাবে তিলাওয়াত করতেন তিনি। এ কারণে স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।

দেখেছেন ইতিহাসের নানা অধ্যায়

পরিবারের দাবি, দীর্ঘ জীবনে আব্বাস প্রামাণিক ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালসহ ইতিহাসের নানা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সাক্ষী হয়েছেন। তাঁর নাতি-নাতনিদের অনেকের বয়সও ৬০ বছর পেরিয়েছে।

অতি সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন আব্বাস প্রামাণিক। জীবনের অধিকাংশ সময় হেঁটেই চলাচল করেছেন; পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, কখনো যানবাহনে চড়েননি। একসময় সংসারে সচ্ছলতা থাকলেও শেষ জীবনে একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করতেন। তবে ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সেবা-যত্ন পেয়েছেন তিনি।

ছয় ছেলে ও দুই মেয়েকে বড় করে বিয়ে দিয়েছিলেন আব্বাস প্রামাণিক। মেয়েরাও সুযোগ পেলেই বাবাকে দেখতে বাড়িতে আসতেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad