দায়িত্ব এড়িয়ে নয়, কাজের মাধ্যমেই গড়ে ওঠে ক্যারিয়ার

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি : এআই দিয়ে তৈরি
করপোরেট কর্মক্ষেত্রে নতুন দায়িত্ব পেলেই অনেক কর্মীর মধ্যে অস্বস্তি দেখা যায়। কেউ কাজটি কীভাবে এড়ানো যায়, সেই চিন্তায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন; কেউ আবার মনে করেন, অন্যদের বাদ দিয়ে শুধু তাঁকেই অতিরিক্ত কাজ দেওয়া হচ্ছে। অথচ দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে অনেক সময় কর্মীর সক্ষমতার ওপর আস্থা ও তাঁর দক্ষতা যাচাইয়ের সুযোগও থাকতে পারে। তাই কাজকে শুধু বাড়তি চাপ হিসেবে না দেখে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।দায়িত্বই হতে পারে দক্ষতা প্রমাণের সুযোগ

নিয়মিত দায়িত্বের বাইরে কোনো কাজ পেলে শুধু নির্দেশনা অনুসরণ করে তা শেষ করাই যথেষ্ট নয়। বরং সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ভালোভাবে কাজটি সম্পন্ন করা গেলে কর্মীর সক্ষমতা আলাদাভাবে দৃশ্যমান হয়। এতে বোঝা যায়, তিনি শুধু নির্দেশ পালন করেন না, বরং নতুন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার যোগ্যতাও রাখেন।

অন্যদিকে, সব সময় কাজ এড়িয়ে চলা, অজুহাত দেওয়া কিংবা ‘এটি আমার কাজ নয়’ বলে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রবণতা কর্মীর পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। দীর্ঘ মেয়াদে এমন ধারণা তৈরি হলে কর্মক্ষেত্রে আস্থা অর্জন কঠিন হয়ে পড়ে।

কাজের মধ্য দিয়েই তৈরি হয় পরিচিতি

কোনো কাজ শুরুতে কঠিন মনে হলেও নিয়মিত অনুশীলন ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তা সহজ হয়ে আসে। যে কাজ শেষ করতে আগে এক ঘণ্টা লাগত, দক্ষতা বাড়লে সেটি ১৫ মিনিটেও করা সম্ভব হতে পারে। এভাবেই কাজের অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হয় দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও নির্ভরযোগ্যতা।

একজন কর্মী ধারাবাহিকভাবে ভালো কাজ করলে সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। নির্দিষ্ট ধরনের কাজে তাঁর দক্ষতার পরিচিতি তৈরি হয়। একসময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্যও তাঁকে বিবেচনা করা হতে পারে। এভাবেই কাজের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে পেশাগত পরিচয় ও ক্যারিয়ারের ভিত্তি।

তবে অন্যায্য কাজের চাপ মেনে নেওয়া নয়

দায়িত্ব গ্রহণের অর্থ এই নয় যে, একজন কর্মীকে সীমাহীন কাজের চাপ নীরবে সহ্য করতে হবে। নিয়মিত কাজ শেষ করার আগেই নতুন দায়িত্ব আসতে থাকলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন করা অসম্ভব হয়ে পড়লে বিষয়টি যথাযথভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো জরুরি।

এ ক্ষেত্রে শুধু ‘কাজের চাপ অনেক’ বলে অভিযোগ না করে কাজের একটি সুস্পষ্ট তালিকা তৈরি করা যেতে পারে। কোন কাজ শেষ করতে কত সময় লাগছে, কোনটির সময়সীমা আগে, কোন কাজটি বেশি জরুরি এবং কোনটি অন্য কাজের ওপর নির্ভরশীল—এসব তথ্য সাজিয়ে উপস্থাপন করলে প্রকৃত পরিস্থিতি বোঝানো সহজ হয়।

অভিযোগ নয়, তথ্য দিয়ে পরিস্থিতি বোঝান

কর্মক্ষেত্রে কোনো সমস্যা তুলে ধরার সময় কথার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। আক্রমণাত্মক ভাষায় অভিযোগ না করে শান্তভাবে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করা ভালো। এতে কাজের চাপের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয় এবং দায়িত্ব পুনর্বণ্টন কিংবা অগ্রাধিকার নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা করা সহজ হয়।

লেখকের ২১ বছরের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, অনেক কর্মী কাজের চাপ নিয়ে অভিযোগ করলেও কোন কাজে কতটা সময় ব্যয় হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব দিতে পারেন না। অথচ কাজের পরিমাণ, সময় ও সময়সীমার তথ্য তুলে ধরতে পারলে ব্যবস্থাপনার পক্ষে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা সহজ হয়।

ক্যারিয়ার গড়তে তাই দায়িত্বশীলতা ও নিজের সীমাবদ্ধতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার মধ্যে ভারসাম্য জরুরি। দায়িত্ব এড়িয়ে চললে যেমন দক্ষতা ও আস্থা অর্জনের সুযোগ কমে যায়, তেমনি পরিকল্পনা ছাড়া অতিরিক্ত কাজের চাপ নেওয়াও দীর্ঘ মেয়াদে কার্যকর নয়। কাজের মাধ্যমে নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করা এবং প্রয়োজনের সময় তথ্যভিত্তিকভাবে সহায়তা চাওয়ার অভ্যাসই পেশাগত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad