এলপিজি ও নিত্যপণ্যের বাজারে অভিযান, ৪২ জেলায় ১১৯ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৫ দুপুর
  • ২৯৫৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি এবং ভোজ্যতেল, ডিমসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখতে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার ঢাকা মহানগরসহ ৪২ জেলায় পরিচালিত এসব অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ১১৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের ৫৬টি দল একযোগে পাইকারি ও খুচরা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও সরবরাহ, পণ্যের মজুত এবং সরবরাহ পরিস্থিতি যাচাই করা হয়।

লাইসেন্স ছাড়াই এলপিজি মজুত

ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডলের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ‘মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ’কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে লাইসেন্স ছাড়া বিপুল পরিমাণ এলপিজি সিলিন্ডার মজুত, গ্যাস কেনার ক্যাশমেমো দেখাতে না পারা, ক্রেতাকে পাকা ক্যাশমেমো না দেওয়া, স্টক রেজিস্টার সংরক্ষণ না করা এবং মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করার মতো অনিয়ম পাওয়া যায়।

অভিযান শেষে মজুত করা এলপিজি সরকার নির্ধারিত দামে ভোক্তাদের কাছে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।

কারওয়ান বাজারে মাছ ধ্বংস

কারওয়ান বাজারে পৃথক অভিযানে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ক্ষতিকর রং মেশানো প্রায় ২০ কেজি মাছ ধ্বংস করা হয়।

মাছে ক্ষতিকর রং ব্যবহারের দায়ে সুকুমার নামের এক বিক্রেতাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে মাছের বাজারে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা ও রঙিন বাতি ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

নিত্যপণ্য ও মসলার বাজারে মূল্যতালিকা প্রদর্শন না করা এবং অপরিচ্ছন্ন মেঝেতে গুঁড়া মসলা রাখার দায়ে আরও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শিকদার শাহীনুর আলম ও ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান।

কৃত্রিম সংকট না করার নির্দেশ

অধিদপ্তর জানিয়েছে, তদারকির সময় ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিকভাবে পণ্য মজুত এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দোকানের দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং সরকার নির্ধারিত দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির বিষয়ে সতর্ক করা হয়।

ভোক্তাদের এলপিজি সিলিন্ডার কেনার আগে ওজন, সিল, মেয়াদ ও দৃশ্যমান ত্রুটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। পণ্য কেনার সময় মূল্যতালিকা যাচাইয়ের পাশাপাশি রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহ করতেও বলা হয়েছে।

কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাজারে শৃঙ্খলা, ন্যায্যমূল্য এবং পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

তথ্যসূত্র: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad