এআইয়ে সপ্তাহে ৩.৬ ঘণ্টা সাশ্রয়, কাজ সংশোধনেই যাচ্ছে ৩.৪ ঘণ্টা

  • প্রথম দর্পণ,আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ বিকাল
  • ৩৯৫৫ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কর্মীরা প্রতি সপ্তাহে গড়ে ৩ দশমিক ৬ ঘণ্টা সময় সাশ্রয় করছেন। তবে এআইয়ের তৈরি নিম্নমানের কাজ পর্যালোচনা, সংশোধন, পরিমার্জন ও পুনর্লিখনেই ব্যয় হচ্ছে গড়ে ৩ দশমিক ৪ ঘণ্টা। ফলে এআই ব্যবহারে যে সময় সাশ্রয় হচ্ছে, তার প্রায় পুরো সুবিধাই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ওয়ার্কডের ‘Beyond Productivity: Measuring the Real Value of AI in the UAE’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এআই ব্যবহারে শুধু সময় সাশ্রয় নয়, প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এর সামগ্রিক প্রভাবও পরিমাপ করা হয়েছে গবেষণায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউএইর ৯০ শতাংশ কর্মী সপ্তাহে অন্তত একবার কর্মক্ষেত্রে এআই ব্যবহার করেন। তাদের মধ্যে ৫৮ শতাংশ সপ্তাহে একাধিকবার এবং ১৮ শতাংশ প্রতিদিন এআই ব্যবহার করেন। পরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা ও শীর্ষ নির্বাহীদের অর্ধেকের বেশি নিয়মিত এআই ব্যবহার করছেন।

তবে এআই ব্যবহারের বিস্তার বাড়লেও এর তৈরি কাজের ক্ষেত্রে মানবিক তদারকির প্রয়োজনীয়তা এখনো রয়ে গেছে। কর্মীদের একটি উল্লেখযোগ্য সময় এআইয়ের তৈরি কনটেন্ট পর্যালোচনা ও সংশোধনে ব্যয় করতে হচ্ছে।

সাশ্রয় হওয়া সময় যাচ্ছে নানা কাজে

গবেষণায় দেখা গেছে, এআই থেকে পাওয়া সময় ও দক্ষতার সুবিধা ইউএইর প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল ব্যয় কমাতে ব্যবহার করছে না। প্রায় ৩৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ না করেই বেশি কাজ সামলাতে এই সাশ্রয় কাজে লাগাচ্ছে।

আরও ৩২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান সাশ্রয় হওয়া সময় ও অর্থ কর্মীদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং পুনরায় দক্ষ করে তোলার কাজে ব্যয় করছে। একইভাবে ৩২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান কাজের চাপ ব্যবস্থাপনা, কর্মক্ষেত্রে নমনীয়তা ও কর্মীদের কল্যাণে বিনিয়োগ করছে।

অন্যদিকে, ২৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, তারা মূলত ব্যয় কমানোর জন্য এআই থেকে পাওয়া সাশ্রয় ব্যবহার করছে। মাত্র ০ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, এআই ব্যবহারে তারা উল্লেখযোগ্য সময় বা খরচ সাশ্রয় করতে পারেননি।

ওয়ার্কডের মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্ক ও আফ্রিকা অঞ্চলের গ্রুপ ভাইস প্রেসিডেন্ট জাকারিয়া হালতুত বলেন, এসব পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ইউএইর প্রতিষ্ঠানগুলো এআই নিয়ে পরীক্ষামূলক ব্যবহার থেকে দৈনন্দিন প্রয়োগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এআইয়ের সুফল পেতে আস্থা, মানবিক তদারকি এবং দক্ষতা উন্নয়নে ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন।

গবেষণার তথ্য বলছে, নিয়োগদাতাদের জন্য এআই ব্যবহারে কর্মীদের উৎসাহিত করা এখন আর প্রধান চ্যালেঞ্জ নয়। কারণ, প্রতি ১০ জনে ৯ জন কর্মী ইতোমধ্যে সপ্তাহে অন্তত একবার এআই ব্যবহার করছেন। বরং এআইয়ের তৈরি কাজ পরীক্ষা ও সংশোধনে ব্যয় হওয়া সময় কমানোই পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

ইউএইতে কার্যক্রম বাড়াচ্ছে ওয়ার্কডে

প্রতিবেদন প্রকাশের সময়ই ইউএইতে কার্যক্রম শুরু করেছে ওয়ার্কডে। এর অংশ হিসেবে দুবাইয়ে নতুন অফিস স্থাপন, আঞ্চলিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় নেতৃত্বের পরিধি বাড়ানোর কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, ইউএইতে তাদের কার্যক্রমের প্রধান লক্ষ্য হবে মানবসম্পদ, অর্থ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওয়ার্কডের প্রযুক্তি ব্যবহারে সহায়তা করা।

ওয়ার্কডের ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা (ইএমইএ) অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলিক দে ভ্রিস-শিপারাইন বলেন, ইউএইর প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসায়িক রূপান্তরের দিকে এগোচ্ছে। বিশেষ করে বড় ও নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে ফলাফল নিশ্চিত করার পাশাপাশি আস্থা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad