গ্রামেও বাড়ছে ডেঙ্গু, চিকিৎসা ও পরীক্ষাসেবায় সংকট

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত
রাজধানী ও নগরকেন্দ্রের বাইরে এবার গ্রামাঞ্চলেও বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। কোথাও পরীক্ষার কিট সংকটে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ বন্ধ, কোথাও নির্ধারিত শয্যার বাইরে রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এর মধ্যে যশোরের কেশবপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে।কালীগঞ্জে কিট সংকটে বন্ধ ডেঙ্গু পরীক্ষা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু শনাক্তকরণের কিট সংকটে গত ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। ফলে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীরা পরীক্ষা করাতে না পেরে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৮২ জনের ডেঙ্গু পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩৭ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে ৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

তবে কবে নাগাদ নতুন করে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে বলতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমানুল্লাহ আল মামুন বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত কিট ছিল। এর কিছু অন্য উপজেলায় ধার হিসেবে দেওয়ায় বর্তমানে সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত কিটের মজুত হলে আবার ডেঙ্গু পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে শুরু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কেশবপুরে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যু

যশোরের কেশবপুরে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মতলেব হোসেন নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে কেশবপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরের বালিয়াডাঙ্গা এলাকার ব্যবসায়ী মতলেব হোসেন বুধবার বিকেলে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি বছর কেশবপুরে ১৭২ জন নারী-পুরুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে মতলেব হোসেন মারা গেছেন। বর্তমানে আলেয়া, সাবিনা ও মির্জা গালিব নামে তিনজন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

কিশোরগঞ্জে একদিনে নতুন আক্রান্ত ৪০

কিশোরগঞ্জে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা নতুন করে বাড়ছে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর জেলায় নতুন করে ৪০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে।

চলতি বছরের শুরু থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় মোট ১ হাজার ৫৯৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১১৪ জন।

বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও রোগীর চাপ বেড়েছে। একই দিনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে বর্তমানে ১০৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আলভী হাছান বলেন, বর্তমানে ১০৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। রোগীর চাপ আরও বাড়লে পর্যাপ্ত শয্যা, পরীক্ষা, স্যালাইন, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসক ও নার্সিং সেবার সক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজস্থলীতে এক মাসে আক্রান্ত বেড়েছে প্রায় তিনগুণ

রাঙামাটির রাজস্থলীতেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে উপজেলায় ২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। আগস্টে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সাতজন। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় তিনগুণ হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্তদের অধিকাংশকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান বলেন, গত কয়েক মাস ধরে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো রাজস্থলীতেও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

পীরগঞ্জে ৫০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি ১৩০

রংপুরের পীরগঞ্জেও ডেঙ্গু রোগীর চাপ বেড়েছে। ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বর্তমানে ১৩০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে নির্ধারিত শয্যার পাশাপাশি হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দাতেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি ২৪ ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ১৪ জন পুরুষ ও ১০ জন নারী। আক্রান্তদের অধিকাংশই ঢাকা থেকে ফেরত এসেছেন। ঢাকায় থাকা অবস্থায় জ্বর অনুভব করার পর অনেকে বাড়ি ফিরে হাসপাতালে পরীক্ষা করিয়ে ডেঙ্গু শনাক্ত করেছেন। আবার কেউ বাড়িতে জ্বরের পর হাসপাতালে এসে রক্ত পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু ধরা পড়েছে।

পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তরিকুল ইসলাম বলেন, রংপুর জেলার মধ্যে পীরগঞ্জে ডেঙ্গুর প্রভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। আগের বছরগুলোতে এত বেশি ডেঙ্গু রোগী পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তাদের চিকিৎসা চলছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাসপাতালের এই চিত্রে ডেঙ্গুর সংক্রমণ যে শুধু শহরকেন্দ্রিক নেই, তা স্পষ্ট হচ্ছে। একই সঙ্গে উপজেলা পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার কিট, শয্যা ও চিকিৎসাসুবিধার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: স্থানীয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের প্রতিবেদন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad