শত বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি সান্তাহার-রহনপুর রেলপথের স্বপ্ন

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

১১৬ বছরেও চালু হয়নি চাঁপাইনবাবগঞ্জে সান্তাহার-রহনপুর রেললাইন প্রকল্প। এ প্রকল্পটি দেশের উত্তরাঞ্চলের নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এ দুই জেলার মানুষের স্বপ্ন ও প্রাণের দাবি হলেও গুরুত্বপূর্ণ এ দাবি বাস্তবায়নের জন্য কোনো সরকারই এগিয়ে আসেনি। ফলে শত বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত জনপদ সান্তাহার-রহনপুর এ প্রকল্প ।

জানা যায়, গণদাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯১০ সালে তৎকালীন ইস্টার্ন বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করে। জরিপ দলের নেতা ডেলগ্রীন তার রিপোর্টে অবিলম্বে সান্তাহার-রহনপুর এ রেলপথ নির্মাণের জন্য জোর সুপারিশ করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তির পর থেকে উত্তরাঞ্চলের জনগণের এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের রেলওয়ে বোর্ড ১৯৬৩ সালে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পুনরায় কাজ শুরু করে।

গঠিত জরিপ দলের প্রধান আশরাফ আলী ডেলগ্রীনের রিপোর্টের পক্ষে মতামত প্রকাশ করেন। আশরাফ আলী তার অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে ১৯৪ পৃষ্ঠা লিখিত রিপোর্টে প্রকল্পের একটি ব্লু প্রিন্ট ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের গভর্নরের কাছে হস্তান্তর করেন। কিন্তু যাবতীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও রেলওয়ে বোর্ড রহস্যজনকভাবে হঠাৎ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সব কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ৬৬ মাইল দীর্ঘ বগুড়ার সান্তাহর-চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রেলওয়ে প্রকল্পটি ব্রড ও মিটার গেজ দুই ধরনের লাইন নির্মিত হওয়ার কথা ছিল। নতুন এ রেলপথে ১১টি স্টেশন রাখার কথাও ছিল। স্টেশনগুলো হলো সান্তাহার স্টেশন থেকে নওগাঁ শহর, হাঁপানিয়া হাট, হযরতপুর, জাহাঙ্গীরাবাদ, মহিষবাথান, নজিপুর, মধইল, সাপাহার, পোরশা উপজেলার সারাইগাছী বাজার, বেজোড়া, দাদপুর হয়ে রহনপুর স্টেশন। এছাড়া ট্রেন চলাচলের জন্য দুটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করার কথাও ছিল। সেতু দুটি নওগাঁ ডিগ্রি কলেজের উত্তর ধারে ছোট যমুনা নদীর ওপর একটি এবং অপরটি পত্নীতলার নজিপুর আত্রাই নদীর ওপর একটি।


পাকিস্তানের স্বাধীনতার পর তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সংসদে সে সময়ের আবুল কালাম আজাদ ও মোজাফ্‌ফর রহমান চৌধুরী এ প্রকল্পটির কথা সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদের বাজেট আলোচনায় সান্তাহার-রহনপুর রেলপথ প্রকল্পটি নিয়ে সেই সময় ব্যাপক আলোচনাও হয়েছিল। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ উত্তরাঞ্চলের নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অবহেলিত জনপদ তথা বরেন্দ্র ভূমির আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে তেমন কোনো পদেক্ষপ গ্রহণ করেনি। এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে অনগ্রসর এ জনপদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য যেমন ধান, আম, মাল্টা, বরই, পেয়ারা, পাট, আখ, গম ইত্যাদি পরিবহনে মুখ্য ভূমিকা রাখতে পারবে এবং সেই সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি ঘটবে বলে নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাবাসীমনে করছেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad