দেশে আন্তঃসংযুক্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেনে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত ৯০ দিনে এ মাধ্যমে লেনদেনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ গুণ এবং অর্থমূল্য প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসাইন খান এসব তথ্য জানান।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) গ্রাহকেরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে দেশজুড়ে প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টের কাছে বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধ করতে পারছেন।
দৈনিক লেনদেন ১৪৩ কোটি টাকার বেশি২০২৬ সালের জুনে দৈনিক গড়ে প্রায় এক লাখ বাংলা কিউআর পেমেন্ট হতো। এসব লেনদেনের গড় অর্থমূল্য ছিল ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ পেমেন্ট হচ্ছে। এর অর্থমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
সেপ্টেম্বর মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে গড় লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। ওই মাসে প্রতিটি লেনদেনের গড় অর্থমূল্য ছিল ৪ হাজার ১০১ টাকা, যা জুনে ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা।
কমছে লেনদেনের খরচবাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে দেশীয় বাংলা কিউআরভিত্তিক লেনদেন বাড়াতে গত ১ জুলাই থেকে সব ধরনের প্রোপ্রাইটারি কিউআরের পরিবর্তে বাংলা কিউআর চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার, কার্যকারিতা ও মূল্য নির্ধারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
১ অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট গ্রহণে মার্চেন্টদের উৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট হিসাবে অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলা কিউআর পেমেন্টে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) সর্বোচ্চ ১ শতাংশ নির্ধারণ এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ রিইমবার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) শূন্য করা হয়েছে। এর ফলে বাজারে বাংলা কিউআর পেমেন্টের খরচ কমবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
নভেম্বরে চালু হচ্ছে ব্যক্তি-থেকে-ব্যক্তি লেনদেনআগামী ১ নভেম্বর থেকে বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে পারসন-টু-পারসন (পিটুপি) লেনদেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলা কিউআর স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে কিউআর কোডের ছবি আপলোড করে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।
এ ছাড়া গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে ব্যর্থ বাংলা কিউআর লেনদেনের অর্থ দ্রুত ফেরতের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য গত ২৭ সেপ্টেম্বর পৃথক নির্দেশিকা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)