নাদিরা জাহান প্রীতি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ
প্রত্যেক মানুষের স্বপ্ন আলাদা। কেউ শিক্ষক, কেউ আইনজীবী, আবার কেউ সমাজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেন। তবে স্বপ্ন দেখা ও তা বাস্তবায়নের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে পরিস্থিতি অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
বাস্তব জীবন সবসময় স্বপ্নের মতো হয় না। অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক দায়িত্ব, ব্যর্থতা, প্রতিযোগিতা কিংবা কাছের মানুষের প্রতারণার মতো অভিজ্ঞতা অনেককে হতাশ করে। কেউ কেউ এসব বাধার কারণে স্বপ্ন থেকে সরে দাঁড়ান। অথচ ব্যর্থতা থেকেই অনেক সময় সফলতার পথ তৈরি হয়।
লক্ষ্য অর্জনে আত্মবিশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তবতা মানুষকে শেখায়—সবকিছু নিজের ইচ্ছামতো হয় না। কখনো পথ পরিবর্তন করতে হয়, নতুন দক্ষতা অর্জন করতে হয়, আবার কখনো কোনো স্বপ্ন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাফল্য দেখে হতাশ না হয়ে নিজের অগ্রগতিতে মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারণ প্রত্যেক মানুষের জীবন, সুযোগ ও সংগ্রাম আলাদা। বাস্তবতাকে বাধা হিসেবে না দেখে পথপ্রদর্শক হিসেবে গ্রহণ করে ধৈর্য, পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।
কঠিন সময়েও স্বপ্ন ছাড়েননিরওশন আক্তার অরিন
চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হসপিটাল
ছোটবেলা থেকেই মেডিকেল সেক্টরে কাজ করার ইচ্ছা ছিল রওশন আক্তার অরিনের। হাসপাতাল, চিকিৎসক ও নার্সদের কাজ তাকে আকৃষ্ট করত। বিশেষ করে আইসিইউতে কাজ করার স্বপ্ন ছিল তার। তবে এইচএসসি শেষ করার পর শারীরিক অবস্থার অবনতিসহ নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হয় তাকে।
পরিস্থিতির কারণে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়াও সহজ ছিল না। পরে তার স্বপ্নের প্রতি একাগ্রতা দেখে পরিবার তাকে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়। পরিবারের আর্থিক সংকট থাকলেও তারা তার স্বপ্নকে গুরুত্ব দেয়। শেষ পর্যন্ত নার্সিংয়ে পড়ার সুযোগ পান তিনি।
অরিন জানান, কঠিন সময়ে তার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন মা। অন্যরা নানা কথা বললেও মা তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। হতাশ হয়ে পড়লে মাই তাকে আবার উঠে দাঁড়ানোর সাহস দিয়েছেন।
বর্তমানে নার্সিংয়ের পড়াশোনা শেষ করে ইন্টার্নশিপ করছেন অরিন। তার মতে, এ পথচলা তাকে শিখিয়েছে—শুধু স্বপ্ন দেখলেই হয় না, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে ধৈর্য ধরে লড়াইও করতে হয়। তার বাবা ও ছোট বোনের অবদানও এই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন পরিকল্পনাশারমিন উদ্দিন
ইডেন মহিলা কলেজ
জীবনে লক্ষ্যপূরণের স্বপ্ন সবারই থাকে। কেউ উদ্যোক্তা, কেউ সরকারি কর্মকর্তা, কেউ লেখক, শিল্পী কিংবা অন্য কোনো পেশাজীবী হতে চান। কিন্তু স্বপ্নের পথে এগোতে গিয়ে বাস্তবতার নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।
অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক দায়িত্ব, সামাজিক চাপ, সুযোগের অভাব, সময়ের সীমাবদ্ধতা ও বারবার ব্যর্থতা অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ কঠিন করে তোলে। অর্থের অভাবে মেধা ও আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও অনেকের পড়াশোনা বা প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। আবার পারিবারিক দায়িত্বের কারণে অনেককে নিজের স্বপ্ন পিছিয়ে দিতে হয়।
সামাজিক নেতিবাচক মন্তব্য, অন্যের সঙ্গে তুলনা এবং বয়স বা সময় নিয়ে তৈরি চাপও মানুষের মধ্যে হতাশা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সাফল্য না এলে অনেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
তবে বাস্তবতা মানেই থেমে যাওয়া নয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা পরিবর্তন করেও লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব। সব স্বপ্ন একই পথে পূরণ না হলেও চেষ্টা, ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস থাকলে বিকল্প পথ তৈরি করা যায়।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)