দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আজহারুলের দোকানে পুঁজি দিলেন নরসিংদীর জেলা প্রশাসক

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ দুপুর
  • ৯৪১০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
নরসিংদীর পলাশে চরম আর্থিক সংকটে পড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী যুবক আজহারুল ইসলামের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। তার ছোট দোকানের পুঁজি পুনর্গঠনে নগদ অর্থের চেক দিয়ে কর্মসংস্থান ও আয়ের পথ সচল করার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

২৫ বছর বয়সী আজহারুল ইসলাম পলাশ উপজেলার মাঝেরচর গ্রামের দিনমজুর মাজহারুল ইসলামের ছেলে। তার বাবা জন্ম থেকেই বাক ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের চার পুরুষ সদস্যের মধ্যে শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। আজহারুলও জন্মগতভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী; তার দৃষ্টিশক্তির মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ অবশিষ্ট রয়েছে।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতার কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আলিয়া মাদরাসায় কিছুদিন পড়াশোনা করলেও কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সনদ অর্জন করতে পারেননি তিনি। ২০ বছর বয়সের পর পরিবারের উদ্যোগে বিয়ে হয় তার। বর্তমানে চার বছর বয়সী মেয়ে আনিফা ও দেড় বছর বয়সী ছেলে আশফাককে নিয়ে তার সংসার।

চিকিৎসা ব্যয়ে শেষ দোকানের পুঁজি

সংসার চালাতে বাড়ির পাশে স্থানীয় একটি স্কুলের কাছে ছোট টং দোকান দিয়ে শিশুদের খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করতেন আজহারুল। তবে দ্বিতীয় সন্তান আশফাকের জন্মের সময় চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে দোকানের পুরো পুঁজি শেষ হয়ে যায়। ফলে পণ্যহীন দোকান নিয়েই অলস সময় কাটাতে হচ্ছিল তাকে।

পরে এক পথচারীর দেওয়া এক হাজার টাকা দিয়ে দোকানে সামান্য পণ্য তুললেও তা দিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছিল না।

গণমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমে জানতে পেরে সহায়তা

এক গণমাধ্যমকর্মীর মাধ্যমে আজহারুলের সংকটের বিষয়টি জানতে পারেন জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া। পরে তাকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ডেকে তার পরিস্থিতির কথা শোনেন তিনি। এরপর দোকানের পুঁজি পুনর্গঠনের জন্য আজহারুলের হাতে নগদ অর্থের চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

সহায়তা পেয়ে আজহারুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয় সন্তান হওয়ার সময় চিকিৎসা খরচে দোকানের সব পুঁজি শেষ হয়ে গিয়েছিল। খালি দোকান নিয়ে বসে তিনি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতেন। জেলা প্রশাসকের সহায়তায় দোকানের ব্যবসা আবার চালু করে সংসার ঘুরিয়ে দাঁড়ানোর আশা করছেন তিনি।

জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, বিষয়টি মানবিকতার পাশাপাশি নাগরিকের প্রতি প্রশাসনের দায়িত্বের অংশ। একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে আজহারুলের পরিস্থিতি জানতে পেরে তার দোকানের পুঁজির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমাজ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা মানুষের পাশে জেলা প্রশাসন সবসময় থাকবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad