খুলনা সিটি নির্বাচন: বিএনপির কোন্দলে সুবিধা নিতে চায় জামায়াত

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৫ দুপুর
  • ৩৮৫৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আবারও প্রকাশ্যে এসেছে। মহানগর বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু ও শফিকুল আলম মনাকে ঘিরে দলটির নেতাকর্মীরা কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। কেন্দ্রীয়ভাবে একাধিকবার সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।

বিএনপির এই বিভাজনের সুযোগ কাজে লাগাতে মাঠে সক্রিয় রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি ইতোমধ্যে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং কেসিসির ৩১টি ওয়ার্ডের অধিকাংশে কাউন্সিলর প্রার্থীও চূড়ান্ত করেছে। বিপরীতে বিএনপি এখনো মেয়রসহ কোনো পদে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি।

মঞ্জু-মনা বিরোধে বিভক্ত বিএনপি

খুলনার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তিনি বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগরের সাবেক সভাপতি। তার সঙ্গে রয়েছেন মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি। অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা ও শফিকুল আলম তুহিনের রয়েছে পৃথক কর্মী-সমর্থক বলয়।

মঞ্জু দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর মনা-সমর্থিত অংশের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়। পরে তিনি দলে ফিরলে পুরোনো বিরোধ আবারও দৃশ্যমান হয়। দুই পক্ষের বিরোধ নিরসনে বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উদ্যোগ নিলেও তা স্থায়ী সমাধানে পৌঁছায়নি।

দলীয় একাধিক নেতা মনে করছেন, এই বিভাজনের প্রভাব জাতীয় নির্বাচনের ফলেও পড়েছিল। আগামী সিটি নির্বাচনেও গ্রুপিং অব্যাহত থাকলে তার প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

মেয়র পদে বিএনপিতে একাধিক দাবিদার

বর্তমানে কেসিসির প্রশাসকের দায়িত্বে রয়েছেন নজরুল ইসলাম মঞ্জু। গত সংসদ নির্বাচনে তিনি খুলনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। দলীয় কোন্দল, গ্রুপিং, প্রতিদ্বন্দ্বীকে কম গুরুত্ব দেওয়াসহ বিভিন্ন কারণকে ওই পরাজয়ের পেছনে উল্লেখ করেছেন দলটির নেতারা।

এবারও মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী মঞ্জু। পাশাপাশি মহানগর বিএনপির সভাপতি ও খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা, মহানগর বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম জহির এবং মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগরসহ আরও কয়েকজন মনোনয়ন চাইছেন।

মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, তিনি দলের কাছে মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চাইবেন। দল মনোনয়ন দিলে তিনি নির্বাচন করবেন।

তবে কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সিটি নির্বাচন নিয়ে দল থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাননি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে তিনি কিছু করবেন না বলেও জানান।

জামায়াতের প্রস্তুতি এগিয়ে

বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধের বিপরীতে জামায়াত কেসিসি নির্বাচনকে সামনে রেখে আগে থেকেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানকে দলটির মেয়র প্রার্থী করা হয়েছে। পাশাপাশি অধিকাংশ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, কেসিসি মেয়র পদে জামায়াত দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচন করছে। এর আগে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ছাতা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলেন। এবারও জনগণের সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন এসএম মুশফিকুর রহমান। তিনি ২০১৮ ও ২০২৩ সালের কেসিসি নির্বাচনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

৫ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি ভোটার

খুলনা সিটি করপোরেশনে খানজাহান আলী, দৌলতপুর, খালিশপুর, সোনাডাঙ্গা ও সদরসহ মোট ৩১টি ওয়ার্ড রয়েছে। বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৭৭ হাজার ৯০৬ এবং নারী ২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৬৭ জন।

১৯৮৪ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত কেসিসিতে ২০ জন মেয়র দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে বিএনপির আটজন এবং আওয়ামী লীগের পাঁচজন ছিলেন।

খুলনার সিটি রাজনীতিতে ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শক্ত অবস্থান থাকলেও এবার দলটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অভ্যন্তরীণ বিরোধ। অন্যদিকে জামায়াত একক প্রার্থী ও ওয়ার্ডভিত্তিক প্রস্তুতির মাধ্যমে নির্বাচনী মাঠে নিজেদের অবস্থান গুছিয়ে নিচ্ছে।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad