ছুটি রিসোর্টের চারটি গন্তব্য হলো—গাজীপুর, পূর্বাচল, পুবাইল ও ছুটি ফরেস্ট ঈগল রিসোর্ট। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি অতিথিদের জন্য পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর উপযোগী পর্যটন অভিজ্ঞতা তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মানের সেবা ও স্বীকৃতিছুটি রিসোর্ট লিমিটেড ISO 9001:2015 সনদপ্রাপ্ত। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পরিচালিত একটি অনলাইন জরিপে ঢাকার নিকটবর্তী শীর্ষস্থানীয় রিসোর্ট হিসেবে ‘Bangladesh Travel, Tourism & Hospitality Award 2025’ অর্জন করে তারা।
ছুটি গ্রুপের মতে, দেশের পর্যটন সম্ভাবনা শুধু প্রচলিত কয়েকটি গন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রকৃতি, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, খাবার ও স্থানীয় জীবনযাপনকে কেন্দ্র করে নতুন পর্যটন অভিজ্ঞতা তৈরির সুযোগ রয়েছে।
পর্যটনে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগসরকারও পর্যটনকে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। ২০২৬ সালে পর্যটন খাতের জিডিপিতে অবদান বর্তমান প্রায় ৩ শতাংশ থেকে ৬ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের প্রায় ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ এগিয়ে চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে পর্যটন উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের (এসডিজি) ৮.৯ লক্ষ্যের সঙ্গে এ উদ্যোগের সম্পর্ক রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় সংস্কৃতি ও পণ্যের প্রসারে ভূমিকা রাখে—এমন টেকসই পর্যটন নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে।
নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনাছুটি গ্রুপ জানিয়েছে, পর্যটন খাতের সম্প্রসারণে তারা কয়েকটি নতুন প্রকল্প নিয়ে এগোচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে পুবাইলে ছুটি সিগনেচার, পূর্বাচলে ছুটি হারমনি, কক্সবাজারের ইনানীতে ছুটি বিচ রিসোর্ট, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে সালতানাত হাইওয়ে ভিলেজ এবং শ্রীমঙ্গলে সালতানাত টি রিসোর্ট।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন পর্যটন অভিজ্ঞতা তৈরির পাশাপাশি আতিথেয়তা খাতে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
পরিবেশের ওপর গুরুত্বপর্যটন অবকাঠামো সম্প্রসারণের পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে ছুটি রিসোর্ট। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে বৃক্ষরোপণ, সবুজায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যৎ পর্যটনবিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬-এর প্রতিপাদ্য—‘প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ভবিষ্যতের পর্যটন’। এই প্রেক্ষাপটে পর্যটন খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দায়িত্বশীল পর্যটন, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং মানসম্মত আতিথেয়তার সমন্বয়কে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
১৪ বছরের অভিজ্ঞতাকে ভিত্তি করে ছুটি গ্রুপের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বৈচিত্র্যকে কাজে লাগিয়ে নতুন পর্যটন গন্তব্য তৈরি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, স্থানীয় অর্থনীতিকে সম্পৃক্ত করা এবং পরিবেশের সঙ্গে ভারসাম্য রেখে পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স