শান্তিপূর্ণ পরমাণু ব্যবহারে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সমঝোতা

  • এইচএম মোকাদ্দেস,নির্বাহী সম্পাদক
  • আপলোড সময় : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৭ দুপুর
  • ২৪৬৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক ব্যবহারে সহযোগিতা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় আলোচনার পর স্থানীয় সময় ২৫ সেপ্টেম্বর এ সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেকব হেলবার্গ সমঝোতায় সই করেন। সমঝোতায় দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি নিরাপত্তায় পারমাণবিক শক্তির ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

সমঝোতা অনুযায়ী, বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতায় সর্বোচ্চ মাত্রার পারমাণবিক নিরাপত্তা, সুরক্ষা, সেফগার্ডস ও পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধের মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। উভয় দেশই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সেফগার্ডস চুক্তি ও অতিরিক্ত প্রটোকলের আওতাভুক্ত এবং পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) পক্ষ।

১৯৮১ সালের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরমাণু ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার উদ্যোগের সূত্রপাত ১৯৮১ সালে। নতুন সমঝোতা সেই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতার আগের চুক্তিও ১৭ সেপ্টেম্বর ১৯৮১ সালে স্বাক্ষরিত এবং ২৪ জুন ১৯৮২ সালে কার্যকর হয়েছিল।

এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি বেথানি পৌলোস মরিসন বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরেন। ওই ব্রিফিংয়েই তিনি দুই দেশের মধ্যে বেসামরিক পরমাণু সহযোগিতার সমঝোতা স্বাক্ষরের কথা জানিয়েছিলেন।

রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের জ্বালানি নিয়ে অনিশ্চয়তা

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু সহযোগিতার সমঝোতার মধ্যেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম জ্বালানির নতুন চালান দেশে আসা নিয়ে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত বৃহস্পতিবার চালানটি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় আকাশপথের ছাড়পত্র না পাওয়ায় তা পাঠানো সম্ভব হয়নি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চালান গ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। তবে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তার কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট আকাশপথ উন্মুক্ত না থাকার তথ্য পাওয়ার পর ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়।

পরবর্তী সময়সূচি পরে নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি। তবে কোন দেশের আকাশপথ ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি বা কী ধরনের বাধার কারণে চালানটি বিলম্বিত হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারি পর্যায়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

রূপপুরে দুই ইউনিটে ২,৪০০ মেগাওয়াট

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণাধীন রূপপুর বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের তত্ত্বাবধানে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে।

কেন্দ্রটির দুটি ইউনিটে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। দুই ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে।

২০২৩ সালের অক্টোবরে প্রথম ইউনিটের জন্য ১৬৪টি ফ্রেশ ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রাশিয়ার রসাটমের নোভোসিবির্স্ক কারখানা থেকে বিশেষ কার্গো বিমানে ঢাকায় আনা হয়। পরে আইএইএর নজরদারিতে প্রায় ৩০০ কিলোমিটারের সুরক্ষিত ‘গ্রিন করিডর’ দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তায় সেগুলো রূপপুর প্রকল্পে নেওয়া হয়।

পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহার, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। চলতি বছর বাংলাদেশ আইএইএর সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়েও সহযোগিতা জোরদার করেছে।

তথ্যসূত্র: যুগান্তর; দ্য ডেইলি স্টার; ঢাকা ট্রিবিউন; মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর; বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট তথ্য।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad