বাসায় চিকিৎসা ও সাবধানতা
ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ এলে আতঙ্কিত না হয়ে পূর্ণ বিশ্রামে থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনোভাবেই প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ব্যথানাশক ওষুধ (যেমন : আইবুপ্রোফেন, নেপ্রোক্সেন ও ডাইক্লোফেনাক) খাওয়া যাবে না; এতে রক্তপাতের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত পানি, ডাবের পানি, ওরস্যালাইন, লেবুর শরবত ও সুপজাতীয় তরল খাবার প্রচুর পরিমাণে গ্রহণ করুন। ডেঙ্গু যেন অন্য সদস্যদের মধ্যে না ছড়ায়, সে জন্য রোগীকে সার্বক্ষণিক মশারি টানিয়ে রাখুন।
বিপজ্জনক লক্ষণ
ডেঙ্গু জরের তিন থেকে সাত দিনের মধ্যে যখন জ্বর কমতে শুরু করে, তখনই মূলত জটিলতা বা ‘ক্রিটিক্যাল ফেজ’ শুরু হয়। এ সময় নিচের যেকোনো লক্ষণ দেখা দিলে সেটিকে বিপদচিহ্ন হিসেবে বিবেচনা করতে হবে—
* ক্রমাগত বমি হওয়া বা মুখে কোনো কিছু না রাখা।
* তীব্র পেটব্যথা।
* মাড়ি, নাক বা বমির সঙ্গে রক্তপাত এবং কালো পায়খানা হওয়া।
* চরম ক্লান্তি, অলসতা বা মানসিক অস্থিরতা।
* প্রস্রাবের পরিমাণ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া।
* হঠাৎ প্রেশার কমে যাওয়া বা শরীর অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে যাওয়া।
কখন দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হবেন
উপরে উল্লিখিত যেকোনো একটি বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই রোগীকে অবিলম্বে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মতো জটিল রোগে আক্রান্তদের ডেঙ্গু হলে শুরু থেকেই বাড়তি সতর্কতায় চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। মনে রাখবেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় সচেতনতা ও দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণই জীবন রক্ষার প্রধান উপায়। লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন)
বারডেম জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)