দুমকিতে থামছে না পায়রার ভাঙন

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৭ দুপুর
  • ৯১৭৪ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
পটুয়াখালীর দুমকিতে পায়রা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে গোরস্তান, মসজিদ, মন্দির, কৃষিজমি ও শতাধিক বসতবাড়ি। ভাঙন অব্যাহত থাকায় বিলীনের মুখে রয়েছে পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের আলগী গ্রাম। নতুন করে বসতভিটা হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন চললেও তা ঠেকাতে কার্যকর ও স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছরই নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনা। এখন মৃত্যুর পর স্বজনদের দাফনের জায়গাটুকুও রক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা।

আতঙ্কে নদীতীরের মানুষ

সরেজমিনে দেখা যায়, আলগী গ্রামের নদীতীরবর্তী এলাকায় পায়রার তীব্র ভাঙন চলছে। নদীর স্রোতের তীব্রতা বাড়ায় ওয়াপদা বেড়িবাঁধের আশপাশের প্রায় শতাধিক বসতবাড়ি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এরই মধ্যে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে।

বসতভিটা হারানো পরিবারের বেশির ভাগই পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা বেড়িবাঁধের পাশে ঝুপড়ি তুলে মানবেতর জীবনযাপন করছে। কেউ আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঠাঁই পেলেও অনেকে পরিবার নিয়ে অন্য গ্রাম বা শহরে চলে গেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা জাকির বিশ্বাস বলেন, গত পাঁচ-ছয় বছরে দুই শতাধিক পরিবারের ভিটেমাটি, ফসলি জমি ও গাছপালা নদীতে বিলীন হয়েছে। পায়রার ভাঙনে এসব পরিবারের ঘরবাড়ি, বাগান, কবরস্থান, মসজিদ, মন্দির ও কৃষিজমি হারিয়ে গেলেও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কেউ এগিয়ে আসেনি।

মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘সরকার আসে সরকার যায়, আর আলগী গ্রাম শুধু পায়রায় খায়, এ যেন দেখার কেউ নাই।’ তিনি বলেন, বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের পায়রা সেতুর দক্ষিণ পাড় থেকে পশ্চিম দিকে প্রায় তিন কিলোমিটার পাইলিং করা হলে লেবুখালী ও আলগী গ্রাম দুটি রক্ষা পাবে।

‘কখন নদীতেই সলিল সমাধি হয়’

ভাঙনে তিনবার বসতভিটা হারানো নগেন বৈদ্যের উত্তরসূরি নিতাই বৈদ্য ও সুবাস বৈদ্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘রাতে এক ফোটাও ঘুমাতে পারি না। কখন জানি নদীতেই আমাদের সলিল সমাধি হয়। বাড়িঘর, কৃষিজমি সব সর্বনাশা পায়রা নদী নিয়ে গেছে। মোরা সরকারের কাছে এহন মাথা গোঁজার ঠাঁই চাই।’

পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী নজরুল ইসলাম নদীভাঙনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পায়রা নদীর ভাঙনে তাঁর ইউনিয়নের আলগী গ্রামটি প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। যেটুকু অবশিষ্ট ছিল, সেটুকুও ভাঙতে শুরু করেছে।

জরুরি পদক্ষেপের আশ্বাস

পটুয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমরান হোসেন বলেন, জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে ওই অংশে জরুরি ভিত্তিতে কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, পুরো পায়রা নদীর বেসিনকেন্দ্রিক একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি চলমান রয়েছে। স্টাডি পাওয়া গেলে আলগীসহ পায়রার তীরের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো স্থায়ীভাবে রক্ষায় ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) পাঠানো হবে। অর্থ বরাদ্দ পেয়ে কাজ শুরু করা গেলে পায়রা নদীর পাড়ভাঙনের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad