এ সময় শত শত কৃষক সারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন এবং বল্লভেরখাস ইউনিয়ন ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা ডিলার ও সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার অপসারণের দাবিও জানান।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে গিয়ে কৃষকদের আশ্বাস দিলে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর তারা অবরোধ তুলে নেন। এর আগে অবরুদ্ধ কৃষি কর্মকর্তাকে ইউএনওর সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে কচাকাটা থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
সার শেষ, ক্ষুব্ধ কৃষকের সড়ক অবরোধস্থানীয়রা জানান, রবি মৌসুমে আমন, বেগুন ও বিভিন্ন সবজির চাষাবাদে সারের চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলের আবাদও শুরু হয়েছে। তবে চাষাবাদের শুরু থেকেই কৃষকেরা চাহিদা অনুযায়ী সার পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন।
শুক্রবার সকালে গাবতলা এলাকার কৃষকদের জন্য নির্ধারিত ডিলার মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সে সার বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়লে কয়েক শ কৃষক সেখানে জড়ো হন। তারা দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে সার নেওয়ার অপেক্ষা করেন। একপর্যায়ে বরাদ্দের সার শেষ হয়ে গেছে জানিয়ে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হলে কৃষকেরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
পরে ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং দুজনের অপসারণ দাবি করেন।
অবরোধের খবর পেয়ে কচাকাটা থানা পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
কৃষকদের অভিযোগকৃষক ওমর ফারুক বলেন, এক সপ্তাহ আগেও কচাকাটায় সারের জন্য আন্দোলন হয়েছিল। তখন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সার সংকট সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। দিন যত যাচ্ছে, সার সংকট আরও বাড়ছে।
গাবতলা গ্রামের কৃষক মজিবর বলেন, সারের সংকটে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক হয়রানির পরও সার পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে তারা সবাই মিলে সড়ক অবরোধ করেছেন।
একই গ্রামের আব্দুস সালাম বলেন, ডিলারের কাছে গেলে সার নেই বলে জানানো হয়। দীর্ঘদিন ধরে ঘুরেও সার পাননি। শুক্রবার লাইনে দাঁড়ানোর পরও সার শেষ হয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, কৃষি কর্মকর্তারা যদি বলেন সারের সংকট নেই, তাহলে কৃষকেরা সার পাচ্ছেন না কেন?
মেসার্স ভাই ভাই ট্রেডার্সের প্রতিনিধি খায়রুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্যউপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহরিয়ার হোসেন বলেন, উপজেলায় পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। শুক্রবার দুটি পয়েন্ট থেকে সার বিতরণের কথা ছিল। এর মধ্যে একটি পয়েন্টের সার শেষ হয়ে যাওয়ায় কৃষকেরা সার না পেয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেন। অন্য পয়েন্ট থেকে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলাউদ্দিন বলেন, একসঙ্গে অনেক কৃষক সার নিতে আসায় এবং কেউ কেউ সার না পাওয়ায় সমস্যার সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা কিছু সময় সড়ক অবরোধ করেছিলেন। তাদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সবাই সার পাবেন।
তিনি আরও বলেন, সার বিতরণে কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর একই উপজেলার বেরুবাড়ী, বামনডাঙ্গা ও রামখানা ইউনিয়নে সার না পাওয়ার অভিযোগে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছিলেন কৃষকেরা।
তথ্যসূত্র: উপজেলা কৃষি অফিস, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় কৃষক ও প্রত্যক্ষদর্শী।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স