অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, আইফোন পুরোপুরি চার্জ হয়ে গেলে চার্জিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও একই ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় চার্জারে সংযুক্ত থাকলেও ব্যাটারি অতিরিক্ত চার্জ হয়ে নষ্ট হওয়ার ধারণাটি সঠিক নয়।
তবে ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতার জন্য দীর্ঘ সময় ১০০ শতাংশ চার্জে রাখা আদর্শ নয়। লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষয় হয়। দীর্ঘ সময় পূর্ণ চার্জে থাকলে সেই ক্ষয়ের ওপর বাড়তি চাপ পড়তে পারে।
এ কারণে অনেক স্মার্টফোনে চার্জ সীমিত রাখার সুবিধা রয়েছে। গুগল পিক্সেলের ‘অ্যাডাপটিভ চার্জিং’ এবং স্যামসাংয়ের ‘ব্যাটারি প্রটেকশন’ ফিচারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে চার্জ রাখা যায়।
ব্যাটারির বড় শত্রু তাপব্যাটারি ভালো রাখার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। চার্জ দেওয়ার সময় ফোন কিছুটা গরম হওয়া স্বাভাবিক হলেও অতিরিক্ত তাপ ব্যাটারির স্থায়িত্ব কমিয়ে দিতে পারে।
তাই ফোন চার্জ দেওয়ার সময় সেটি বালিশ, কম্বল বা মোটা কাপড়ের নিচে রাখা উচিত নয়। একই সময়ে ভারী গেম খেলা বা দীর্ঘ সময় ভিডিও ধারণের মতো কাজও এড়িয়ে চলা ভালো।
অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রায় আইফোন ব্যবহার বা চার্জ করলে ব্যাটারির ক্ষতি হতে পারে।
রাতে চার্জে রেখে ঘুমানো কি নিরাপদ?অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, রাতে আইফোন চার্জে রেখে ঘুমানো নিরাপদ। তবে ব্যাটারির দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ফোনে চার্জ সীমিত বা অপ্টিমাইজ করার সুবিধা থাকলে সেটি ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী ১০০ শতাংশ চার্জ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
ব্যাটারি ভালো রাখার কয়েকটি উপায়চার্জ দেওয়ার সময় ফোন খোলা ও বাতাস চলাচল করে এমন স্থানে রাখুন।
ফোন অতিরিক্ত গরম হলে কিছুক্ষণ ব্যবহার বন্ধ রাখুন।
মানসম্মত চার্জার ও কেবল ব্যবহার করুন।
‘ব্যাটারি প্রটেকশন’ বা ‘অপ্টিমাইজড চার্জিং’ সুবিধা থাকলে তা চালু রাখুন।
স্মার্টফোনের ব্যাটারি একটি ক্ষয়যোগ্য উপাদান। যত্ন নিলেও সময়ের সঙ্গে এর সক্ষমতা কমে যায়। তাই শুধু রাতভর চার্জে রাখার কারণে ব্যাটারি নষ্ট হয়—এ ধারণা সঠিক নয়। বরং তাপমাত্রা, ব্যবহারের ধরন এবং ব্যাটারির বয়স—এসব বিষয়ই এর স্থায়িত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তথ্যসূত্র: অ্যাপল, গুগল ও স্যামসাংয়ের ব্যাটারি ও চার্জিং-সংক্রান্ত তথ্য; স্টার নিউজের প্রযুক্তি প্রতিবেদন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক