মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে টেবিলে উত্থাপিত রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমীনের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে এদিন বিকেলে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
মন্ত্রী জানান, পৃথক ও স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা, বাস্তবসম্মততা ও আর্থিক সংশ্লেষ যাচাই করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন।
এটি অনুমোদিত হলে সমীক্ষার ফল ও সুপারিশের ভিত্তিতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, আঞ্চলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, জমির প্রাপ্যতা, নির্মাণব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের উদ্যোগস্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখতে কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, প্রস্তাবিত ‘নেক্সটজেন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রোগ্রাম (NGEP)’-এর আওতায় উপজেলা পর্যায়ের এক হাজার বিদ্যালয়ে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রতিটি বিদ্যালয়ে তিনটি করে মোট তিন হাজার নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণের সংস্থান রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ তৈরি হলে পরীক্ষার জন্য পৃথক কক্ষ ব্যবহার করে অন্য শ্রেণির পাঠদান চালিয়ে যাওয়া সহজ হবে।
নেক্সটজেন কর্মসূচির আওতায় প্রযুক্তিনির্ভর রিয়েল-টাইম মনিটরিং, ইউনিফায়েড অ্যাসেসমেন্ট সিস্টেম (UAS), শিক্ষার্থীদের জন্য Edu-ID এবং লার্নিং ট্র্যাজেকটরি চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
অনলাইন ও ব্লেন্ডেড শিক্ষায় জোরশিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘লার্নিং অ্যাক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (LAES)’ প্রকল্পের আওতায় ন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট পরিচালনা, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম উন্নয়ন, অন্তত এক হাজার ই-কনটেন্ট তৈরি এবং শিক্ষার্থী মূল্যায়নের জন্য মোবাইল অ্যাপ উন্নয়নের সংস্থান রয়েছে।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে পরীক্ষা চলাকালেও অনলাইন ও ব্লেন্ডেড পদ্ধতিতে শিখন কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার।
এ ছাড়া পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থাপনাকে সমন্বিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে ‘ন্যাশনাল ইভ্যালুয়েশন অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট সেন্টার স্থাপন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প প্রস্তাব ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্তির জন্য পাঠানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মতামত নিয়ে পৃথক ও স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়ে বাস্তবসম্মত ও সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণ, ডিজিটাল মূল্যায়ন এবং অনলাইন ও ব্লেন্ডেড শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে নিয়মিত পাঠদানের ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন মঙ্গলবার প্যারিসে ইউনেস্কোর ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’ সেমিনারে বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারসহ বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরেন।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক