আবাসন সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যে ৭ নতুন শহর নির্মাণের পরিকল্পনা

  • প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৮ দুপুর
  • ৭৭৩২ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাজ্যের দীর্ঘস্থায়ী আবাসন সংকট মোকাবিলায় ইংল্যান্ডে সাতটি নতুন শহর নির্মাণের পরিকল্পনা করছে লেবার সরকার। পরিকল্পনার আওতায় উত্তর লন্ডনের এনফিল্ডের ক্রুজ হিল ও চেজ পার্ক এলাকায় প্রায় ২১ হাজার বাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। তবে গ্রিন বেল্টের জমি ব্যবহারের আশঙ্কায় স্থানীয় কনজারভেটিভ নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ও গ্রিন পার্টির সমর্থকদের একাংশ প্রকল্পটির বিরোধিতা করছে।

লেখক পলি টয়েনবির এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ব্রিটেনে ক্লেমেন্ট অ্যাটলি ও হ্যারল্ড উইলসনের সময়কার নতুন শহর নির্মাণের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে লেবার সরকার। দীর্ঘস্থায়ী আবাসন সংকট মোকাবিলায় পরিকল্পিত নতুন শহর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

এনফিল্ডে ২১ হাজার বাড়ির পরিকল্পনা

চলতি বছরের মার্চে ব্রিটিশ সরকার সম্ভাব্য সাতটি নতুন শহরের তালিকায় এনফিল্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। সে সময় এনফিল্ডের লেবার নেতৃত্বাধীন স্থানীয় প্রশাসনও প্রকল্পটিকে স্বাগত জানিয়েছিল। পরিকল্পনায় নতুন বাড়ির পাশাপাশি স্কুল, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, কর্মসংস্থান ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা গড়ে তোলার কথা রয়েছে।

তবে মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এনফিল্ড কাউন্সিলে কনজারভেটিভদের নেতৃত্বে নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রকল্পটির প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করে।

কনজারভেটিভ নেতাদের প্রধান আপত্তি, নতুন শহর নির্মাণে গ্রিন বেল্ট হিসেবে সংরক্ষিত জমির একটি অংশ ব্যবহার করা হবে। তারা আবাসন নির্মাণের বিরোধী নন; বরং ব্রাউনফিল্ড বা আগে ব্যবহৃত জমি এবং শহরের কেন্দ্র পুনর্গঠনের মাধ্যমে নতুন বাড়ি নির্মাণে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পক্ষে।

আবাসন চাহিদা বনাম পরিবেশ সংরক্ষণ

প্রকল্পের সমর্থকদের দাবি, এনফিল্ডে আবাসনের প্রয়োজন অত্যন্ত বেশি এবং প্রস্তাবিত এলাকায় রেল যোগাযোগও ভালো। তাদের যুক্তি, গ্রিন বেল্টের আওতাভুক্ত কিছু জমি বর্তমানে বাগানকেন্দ্র, গ্রিনহাউস ও গলফ কোর্সসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব জমির একটি অংশ আবাসনের জন্য ব্যবহার করা গেলে হাজার হাজার মানুষের জন্য বাড়ি তৈরি করা সম্ভব।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খানও এনফিল্ড ও থেমস্‌মিডে নতুন শহর নির্মাণের পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। ফলে আবাসন নির্মাণ বনাম পরিবেশ সংরক্ষণের প্রশ্নটি স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

গণপরিবহনকেন্দ্রিক নতুন শহর

ব্রিটিশ সরকারের আবাসনমন্ত্রী ম্যাথিউ পেনিকুক নতুন শহর পরিকল্পনায় অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর বিচ্ছিন্ন আবাসিক এলাকা না করে গণপরিবহনকেন্দ্রিক ও ঘনবসতিপূর্ণ শহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নতুন শহরগুলোতে স্কুল, হাসপাতাল, দোকান, বিনোদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগের পাশাপাশি সবুজ অবকাঠামো গড়ে তোলার কথা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, আবাসন সংকট কমানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ সৃষ্টি করা।

ইংল্যান্ডে সাতটি নতুন শহর নির্মাণের উদ্যোগকে গত পাঁচ দশকের অন্যতম উচ্চাভিলাষী আবাসন কর্মসূচি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিটি প্রকল্পে বিপুলসংখ্যক বাড়ির পাশাপাশি পরিবহন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সবুজ অবকাঠামো সমন্বিতভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে স্থানীয় পরিবেশ, জমির ব্যবহার এবং জনগণের মতামতের সঙ্গে জাতীয় আবাসন চাহিদার সমন্বয় করাই এ পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এনফিল্ডের বিতর্কের মধ্য দিয়ে প্রশ্নটি সামনে এসেছে—আবাসন সংকট মোকাবিলায় জাতীয় চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, নাকি সংরক্ষিত ভূমি ও স্থানীয় পরিবেশ রক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad