সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের বিচারক মিথিলা ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন চান্দিনা উপজেলার মহিচাইল বারইপাড়া এলাকার মৃত ক্ষিতীশ দাসের ছেলে সমীর চন্দ্র দাস (৪২) ও তাঁর স্ত্রী রূপালী রানী দাস (৩৭)। রায় ঘোষণার সময় তাঁরা দুজনই আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। তবে খালাসপ্রাপ্ত বকুল রানী দাস আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বিবরণআদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চান্দিনার মহিচাইল এলাকায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে রণজিৎ চন্দ্র দাস ও তাঁর স্ত্রী শিল্পী রানী দাসের সঙ্গে আসামিদের তর্কবিতর্ক হয়।
একপর্যায়ে সমীর চন্দ্র দাস, রূপালী রানী দাস ও বকুল রানী দাস ধারালো দা দিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। তাঁদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহত দুজনকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিল্পী রানী দাসকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুরুতর আহত রণজিৎ চন্দ্র দাসকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
ঘটনার দিনই নিহত শিল্পী রানী দাসের ভাসুর নিতাই চন্দ্র দাস বাদী হয়ে সমীর চন্দ্র দাস, রূপালী রানী দাস ও বকুল রানী দাসকে আসামি করে চান্দিনা থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, স্থানীয় লোকজন দণ্ডপ্রাপ্ত সমীর চন্দ্র দাস ও রূপালী রানী দাসকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো. শাহজাহান তদন্ত শেষে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ২০১৮ সালের ১৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
১৮ জনের সাক্ষ্যমামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় মোট ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে।
সাক্ষ্য-প্রমাণ ও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে আদালত সমীর চন্দ্র দাস ও রূপালী রানী দাসের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।
আদালত তাঁদের দণ্ডবিধির ৩০৪(১খ) ধারায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাঁদের আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
এ ছাড়া দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় তাঁদের প্রত্যেককে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
অপর আসামি বকুল রানী দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট মো. ইসমাইল মিয়া রতন।

প্রথম দর্পণ অনলাইন,ডেক্স