বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) আয়োজিত ‘পঞ্চম ন্যাশনাল রিসার্চ প্রজেক্ট কনটেস্ট-২০২৬’-এর ‘এ’ ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) তিন সদস্যের একটি গবেষণা দল।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিইউপির বিজয় অডিটোরিয়ামে প্রতিযোগিতার ফাইনাল পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে বিইউপি রিসার্চ সোসাইটি।
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্যরা হলেন—বাকৃবির কৃষি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাশমিন ফেরদাউস এবং একই অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী চপল কুন্ডু ও মুশফিকুর ইবনে জাহিদ।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, এবারের প্রতিযোগিতায় দেশের প্রায় ৫০টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনলাইনে মোট ২৫০টি গবেষণা প্রবন্ধের সারসংক্ষেপ (অ্যাবস্ট্রাক্ট) জমা পড়ে। প্রাথমিক বাছাই শেষে ৩২টি গবেষণা অফলাইন উপস্থাপনার জন্য নির্বাচিত হয়।
ফাইনাল পর্বে নির্বাচিত গবেষণা দলগুলো বিচারকমণ্ডলীর সামনে তাদের গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে। উপস্থাপনার মান, গবেষণার বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব, বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা এবং গবেষণালব্ধ ফলাফলের সামগ্রিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে বাকৃবির দলটি ‘এ’ ক্যাটাগরিতে চ্যাম্পিয়ন নির্বাচিত হয়। পরে বিজয়ী দলের সদস্যদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
প্রতিযোগিতায় দুটি পৃথক সেগমেন্ট ছিল—‘রিসার্চ প্রজেক্ট পেপার’ ও ‘ক্রিটিক্যাল অ্যাসে রাইটিং’। বাকৃবির দলটি ‘রিসার্চ প্রজেক্ট পেপার’ সেগমেন্টের ‘রিসার্চ ইন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি’ ক্যাটাগরিতে অংশ নেয়।
ফাইনাল পর্বে দলটি ‘অ্যাক্টিভেশন অফ অটোফ্যাগি মিটিগেটেড দ্য সল্ট স্ট্রেস সেনসিটিভিটি ইন রাইস সিডলিংস’ শীর্ষক গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করে। গবেষণাটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম (বাউরেস)-এর অর্থায়নে পরিচালিত ‘ইফেক্টস অফ অটোফ্যাগি অ্যাক্টিভেটর অ্যান্ড ইনহিবিটর অন সল্ট স্ট্রেস সেনসিটিভিটি ইন রাইস সিডলিংস’ প্রকল্পের ফলাফলের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়।
প্রকল্পটির প্রধান গবেষক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আরিফ শাকিল। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া তিন শিক্ষার্থী ওই গবেষণা প্রকল্পে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে যুক্ত থেকে গবেষণাকাজে অবদান রাখেন।
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য নাশমিন ফেরদাউস বলেন, প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হতে পেরে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। গবেষণার প্রতি আগ্রহ থেকেই তারা ড. মো. আরিফ শাকিলের কাছে গিয়ে স্নাতক পর্যায়েই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে তিনি তাদের গবেষণাকাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেন।
তিনি বলেন, প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি থেকে শুরু করে প্রেজেন্টেশনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত শিক্ষক ও গবেষণা দলের অন্যান্য সদস্যরা তাদের মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দিয়েছেন। তাদের পরামর্শ, সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণা আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং প্রতিযোগিতায় নিজেদের সেরাটা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক