ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে তিন বছর পর মাঠে ফিরছে ফিলিস্তিনি ফুটবল

  • প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স
  • আপলোড সময় : ১২ আগস্ট ২০২৬, ১০:৩৪ রাত
  • ২২৭০৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

যুদ্ধের ক্ষত এখনো শুকায়নি। ধ্বংসস্তূপও পুরোপুরি সরেনি। এর মধ্যেই দীর্ঘ প্রায় তিন বছরের বিরতি কাটিয়ে আবারও মাঠে ফিরছে ফিলিস্তিনি ক্লাব ফুটবল। আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ফিলিস্তিনি ক্লাব ফুটবলের নতুন যাত্রা। এই প্রত্যাবর্তনের প্রথম আয়োজনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘থাউজ্যান্ড মার্টিয়ার্স কাপ’—হাজারো শহীদের স্মরণে।

ফিলিস্তিনি ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ) জানিয়েছে, দীর্ঘ বিরতির পর দেশটির ফুটবল কার্যক্রম পুনরায় চালুর প্রথম ধাপ হিসেবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।

সোমবার পশ্চিম তীরের আল-বিরেহতে জোসেফ ব্লাটার একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্ট শুরুর ঘোষণা দেন পিএফএ সভাপতি জিব্রিল রাজুব। তিনি বলেন, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গনকে আবারও জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশে ও প্রবাসে থাকা ফিলিস্তিনিদের মধ্যে নতুন আশার আলো ও আনন্দের উপলক্ষ তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। চলমান আর্থিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকট মোকাবিলায় তিনি ফিফা ও আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাগুলোর সহযোগিতাও কামনা করেন।

প্রথম আসরে অংশ নেওয়ার জন্য মোট ২২৬টি ক্লাবকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে অধিকৃত পশ্চিম তীরের ১৪৬টি, গাজার ৪৪টি এবং লেবাননের ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরের ৩৬টি ক্লাব রয়েছে।

প্রতিযোগিতার প্রাথমিক পর্বে অঞ্চল ও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের শাখাভিত্তিক গ্রুপ পদ্ধতিতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। উদ্বোধনী ম্যাচ একই সময়ে তিন অঞ্চলে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পশ্চিম তীরে জাবাল আল-মুকাবের মুখোমুখি হবে শাবাব আল-খলিল। গাজায় শাবাব রাফাহ খেলবে খাদামাত রাফাহর বিপক্ষে। আর লেবাননের আইন আল-হিলওয়া শরণার্থী শিবিরে মুখোমুখি হবে আল-আনসার ও আল-নাহদা।

শহীদ ক্রীড়াবিদদের স্মরণে নাম

‘থাউজ্যান্ড মার্টিয়ার্স কাপ’ নামকরণ করা হয়েছে বিশেষ তাৎপর্য নিয়ে। পিএফএর তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে সংঘাতের সময় নিহত ১ হাজার ১৪ জন ফিলিস্তিনি ক্রীড়াবিদকে স্মরণ করেই প্রতিযোগিতাটির এই নাম রাখা হয়েছে।

পশ্চিম তীর, গাজা ও লেবাননের জন্য আলাদা তিনটি ট্রফি তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিটি ট্রফিতে ওই ১ হাজার ১৪ জন নিহত ক্রীড়াবিদের নাম যুক্ত থাকবে।

তবে মাঠে ফেরার পথে অর্থনৈতিক সংকট ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিএফএ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী প্রতিটি ক্লাবকে সমান আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ক্লাবগুলো এই অর্থ সরঞ্জাম কেনা ও যাতায়াতের ব্যয় মেটাতে ব্যবহার করতে পারবে।

জিব্রিল রাজুব বলেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ফিলিস্তিনিরা তাদের জাতীয় ইচ্ছাশক্তি ও বিশ্বাস হারায়নি। তাঁর মতে, খেলাধুলা এখনো ফিলিস্তিনিদের কাছে আশা ও জীবনের প্রতীক। দীর্ঘ বিরতির পর ফুটবল চালুর উদ্যোগকে তিনি শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে ফিলিস্তিনি ক্রীড়াঙ্গন পুনর্গঠনের সূচনা হিসেবেও বিবেচনা করছেন।

প্রথম আসরটি মূলত একটি অন্তর্বর্তী প্রতিযোগিতা হিসেবে আয়োজন করা হচ্ছে। এর পরের মৌসুমে নিয়মিত শ্রেণিবদ্ধ লিগ কাঠামো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ ৪ সেপ্টেম্বরের এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুধু একটি টুর্নামেন্টই শুরু হচ্ছে না, বরং দীর্ঘ বিরতির পর নিয়মিত ঘরোয়া ফুটবলে ফেরার পথও তৈরি হচ্ছে।

ফলে ৪ সেপ্টেম্বর ফিলিস্তিনের ফুটবলের জন্য হয়ে উঠতে যাচ্ছে বিশেষ এক দিন। যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও স্মৃতিকে সঙ্গে নিয়ে আবার মাঠে নামবেন ফুটবলাররা। মাঠে গড়াবে বল, ফিরবে গোলের উল্লাস—আর ফুটবল হয়ে উঠবে নতুন করে বেঁচে থাকার প্রত্যয়ের প্রতীক।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad