রাষ্ট্রপতি কী করতে পারেন, কী পারেন না

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৭ দুপুর
  • ১৭২৩৯ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন—এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। রাষ্ট্রপতি পদে কে আসছেন, তা নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির সর্বোচ্চ ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকও হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব, ক্ষমতা ও বাস্তব ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান হলেও নির্বাহী ক্ষমতা মূলত প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার হাতে। ফলে রাষ্ট্রপতির পদটি অনেকটা আনুষ্ঠানিক বা আলংকারিক হিসেবে বিবেচিত। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক অবস্থান তাকে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী করে তুলতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

সংবিধানে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটুকু

১৯৯১ সালে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়। এ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের প্রধান এবং নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগ করেন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।

সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি দুটি ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন—প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতি নিয়োগ। এর বাইরে রাষ্ট্রপতিকে সাধারণত প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হয়।

সংসদ আহ্বান, স্থগিত বা ভেঙে দেওয়া, সংসদে পাস হওয়া বিলে সম্মতি, জরুরি অবস্থা ঘোষণা, রাষ্ট্রদূত নিয়োগ, যুদ্ধ ঘোষণা, শান্তিচুক্তি অনুমোদন এবং ক্ষমা প্রদর্শনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসরণ করতে হয়।

এমনকি প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে কোনো পরামর্শ দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে আদালতেও প্রশ্ন তোলা যাবে না—সংবিধানে এমন বিধান রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির স্বাধীন ক্ষমতা খুবই সীমিত।

তিনি সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা আবদুর রহমান বিশ্বাসের উদাহরণ তুলে ধরেন।

তার মতে, রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের অবস্থানই রাষ্ট্রপতির অধিকাংশ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নির্ধারক হয়ে ওঠে।

নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠানের ধারণা থাকলেও বাস্তবতা ভিন্ন

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি পদটি সাংবিধানিকভাবে নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো সাধারণত নিজেদের পছন্দের ব্যক্তিকেই এই পদে বসাতে চায়। ফলে রাষ্ট্রপতির স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ অনেক সময় সীমিত হয়ে পড়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হওয়ার কথা। কিন্তু রাজনৈতিক বাস্তবতায় তাকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া হয় না।

তার মতে, রাজনৈতিক দলগুলোই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করে বলে এই পদে থাকা ব্যক্তি অনেক সময় পুরোপুরি স্বাধীন অবস্থান নিতে পারেন না।

বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়তে পারে

সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা নির্দিষ্ট সাংবিধানিক সীমার মধ্যে থাকলেও বিশেষ পরিস্থিতিতে তার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এর একাধিক নজির রয়েছে।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদের মতে, রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগের পেছনে রাজনৈতিক শক্তির সমর্থন বা অন্য কোনো ধরনের ক্ষমতার ভারসাম্য কাজ করলে রাষ্ট্রপতি বড় ভূমিকা পালন করতে পারেন।

তিনি বলেন, বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা জারি করা, সংসদ ভেঙে দেওয়া কিংবা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন।

রাষ্ট্রপতি পদকে সংবিধান বিশেষ সুরক্ষাও দিয়েছে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে আদালতে জবাবদিহির আওতায় আনা যায় না। একইভাবে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে।

অধ্যাপক সাব্বির আহমেদের মতে, রাষ্ট্রপতির এমন কিছু সাংবিধানিক সুরক্ষা রয়েছে, যার কারণে তার সিদ্ধান্তকে সহজে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ নেই।

৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রপতির ভূমিকা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতির ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ওই সময় সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির সামনে বিভিন্ন বিকল্প থাকলেও বাস্তব ক্ষমতার ভারসাম্যের কারণে তিনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা মূলত বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, ৫ আগস্ট থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন পর্যন্ত কয়েক দিনে রাষ্ট্রপতি যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, সেগুলোর পেছনে বিদ্যমান ক্ষমতার কাঠামোর প্রভাব ছিল।

ইতিহাসে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার নানা নজির

বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা সবসময় এক রকম ছিল না। বিভিন্ন সময়ে সরকারব্যবস্থার পরিবর্তনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাতেও বড় পরিবর্তন এসেছে।

১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা ছিল। ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি সংসদীয় সরকারব্যবস্থা চালু করা হয়।

এরপর ১৯৭৫ সালের ২৪ জানুয়ারি সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে আবার রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারব্যবস্থা চালু হয়। সে সময় রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে রাষ্ট্রের নির্বাহী ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়।

পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান ও হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলেও রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থা বহাল ছিল। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে আবার সংসদীয় সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়। এর ফলে রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।

রাষ্ট্রপতি ও সেনাবাহিনীর দ্বন্দ্বের নজির

১৯৯৬ সালে বিচারপতি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুই ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবু সালেহ মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাসের দ্বন্দ্ব তৈরি হয়।

একপর্যায়ে ঢাকায় সেনা মোতায়েনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। রাষ্ট্রপতির অনুগত সেনা কর্মকর্তারাও পাল্টা অবস্থান নেন। এতে দেশে সামরিক অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। পরে সেনাপ্রধানকে অব্যাহতি দিয়ে আটক করা হয়।

সাহাবুদ্দীন আহমদের নিরপেক্ষতার নজির

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দলের বাইরের ব্যক্তি সাবেক প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি একটি বিতর্কিত ‘জননিরাপত্তা আইন’-এ স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৎকালীন সরকার ও আওয়ামী লীগের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়।

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয়ের পর দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগও করেছিলেন। তবে সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় সীমিত ক্ষমতার মধ্যেও নিরপেক্ষ ভূমিকার জন্য তিনি ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হন।

বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগ

২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই দলের সঙ্গে তার দূরত্ব তৈরি হয়।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার কবরে শ্রদ্ধা জানাতে না যাওয়া এবং জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উল্লেখ না করাকে কেন্দ্র করে দলের সঙ্গে তার বিরোধ তীব্র হয়।

একপর্যায়ে বিএনপি নেতৃত্ব রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগের আহ্বান জানায়। এমনকি রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পরে বদরুদ্দোজা চৌধুরী নিজেই পদত্যাগ করেন।

ইয়াজউদ্দিন আহমেদের সময় রাষ্ট্রপতির বড় ভূমিকা

২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হলে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদ নিজেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন।

পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে তাকে সেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। তার নামেই তখন জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছিল। এরপর ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রায় দুই বছর দেশ পরিচালনা করে।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদের মতে, ওই সময় রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন আহমেদের ভূমিকা ছিল রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা প্রয়োগের অন্যতম বড় উদাহরণ।

ব্যক্তি ও পরিস্থিতির ওপরও নির্ভর করে ক্ষমতার প্রয়োগ

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতার পাশাপাশি তার ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে একই সংবিধানের অধীনে ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রপতির ভূমিকা ভিন্ন হতে দেখা গেছে।

অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কতটা কার্যকর হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে তিনি কে এবং কোন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করছেন তার ওপর।

বাংলাদেশের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর মতবিরোধের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। ওই মতবিরোধের পর আবু সাঈদ চৌধুরী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

রাষ্ট্রপতি পদ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ

সংসদীয় সরকারব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতির নির্বাহী ক্ষমতা সীমিত হলেও রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোয় এই পদটি সর্বোচ্চ মর্যাদার। বিশেষ করে রাজনৈতিক সংকট, সরকার গঠন, সাংবিধানিক শূন্যতা বা জরুরি পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণেই রাষ্ট্রপতি পদে কে বসছেন, তা শুধু আনুষ্ঠানিক বিষয় নয়—রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তা গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতি যদি দলীয় প্রভাবের বাইরে থেকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন, তাহলে এই পদটি রাষ্ট্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলীয় আধিপত্যের কারণে রাষ্ট্রপতির সেই স্বাধীন ভূমিকা কতটা কার্যকর হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad