'জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন করবে সরকার, বিভ্রান্তির সুযোগ নেই'—মির্জা ফখরুল

  • মো. জাকির হোসাইন,স্টাফ রিপোর্টার
  • আপলোড সময় : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৩:০৪ দুপুর
  • ২০৯০৮ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বর্তমান সরকারই বাস্তবায়ন করবে। এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টার।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিরোধী দল জুলাইকে কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। কিন্তু সরকার চায় না, জুলাইয়ের গণআন্দোলন কেবল ক্ষমতার রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ থাকুক।

তিনি বলেন, বিরোধী দল থেকে দাবি করা হচ্ছে—‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথে ফয়সালা হবে।’ অথচ আন্দোলনে অংশ নেওয়া সব রাজনৈতিক দলই যৌথভাবে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। সরকার বারবার স্পষ্ট করেছে, জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গণভোট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গণভোটের কিছু বিষয় নিয়ে বিএনপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। বিশেষ করে উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে দলটির সম্মতি ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, সংস্কার কমিশন বিএনপির মতামত ছাড়াই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেছিল। সে সময় তিনি এ বিষয়ে প্রকাশ্যেও বক্তব্য দিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—প্রতিটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে। বিএনপি যেমন তাদের ৩১ দফা বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ, তেমনি জুলাই সনদের প্রতিও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে এ বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

বিরোধী দলের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, জনগণকে উত্তেজিত করতে বিভিন্ন মুখরোচক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশের মানুষ সচেতন এবং তারাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি বলেন, সরকার সংবিধান সংশোধনের পক্ষে, সংস্কারের নয়। জনগণের ভোটে পাওয়া দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটি শুধু একটি মাসের আন্দোলন নয়; বরং প্রায় ১৮ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে চলমান সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি।

স্মরণসভায় প্রফেসর এমাজউদ্দীন আহমেদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, মরহুম এমাজউদ্দীন ছিলেন উদার গণতন্ত্রের এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। ব্যক্তিগত কোনো প্রাপ্তির প্রত্যাশা ছাড়াই তিনি আজীবন গণতন্ত্র ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব ও প্রেরণা দিয়ে গেছেন। ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের চেতনা ধারণ করে একটি ঐক্যবদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল হাসান, যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টসের সভাপতি ও আমার দেশ-এর যুগ্ম সম্পাদক এম আবদুল্লাহ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ এবং বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক আবুল কাশেম হায়দার।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রফেসর এমাজউদ্দীন রিসার্চ সেন্টারের আহ্বায়ক আবদুল লতিফ মাসুম।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
Sidebar Ad