'জুলাই শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই হবে তাদের আত্মত্যাগের প্রকৃত সম্মান'

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ১৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৬ রাত
  • ২৩৯৭৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের আত্মত্যাগ কখনোই বৃথা যাবে না বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অমর চেতনা আমাদের জন্য শুধু ইতিহাসের গৌরব নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গঠনের প্রেরণা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পালিতব্য ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে বুধবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

বার্তায় তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, শোক ও কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ এবং দেশের সর্বস্তরে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামে কলেজশিক্ষার্থী মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ অন্তত ছয়জন শহীদ হন।

তিনি বলেন, রংপুরে দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ আবু সাঈদের দৃশ্য গণতন্ত্রকামী মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। সেই আত্মত্যাগই আন্দোলনকে নতুন গতি দেয় এবং কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন একপর্যায়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের গণআন্দোলনে রূপ নেয়। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ গণঅভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়।

প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর দরবারে শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামসহ ১৬ জুলাইয়ের সব শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।

তিনি বলেন, ১৬ জুলাই জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন। এদিন রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, প্রাণঘাতী শক্তির ব্যবহার এবং ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতা যে সাহসী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল। বিশেষ করে আবু সাঈদের বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্য অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের এক চিরন্তন প্রতীক হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চলা ফ্যাসিবাদ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, লুণ্ঠন, গুম, খুন, দমন-পীড়ন এবং ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে সমগ্র জাতির ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ। সেই আত্মত্যাগের শক্তিতেই দেশের মানুষ নতুন করে গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পর বর্তমান সরকার শহীদদের পবিত্র আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। রাষ্ট্র ও সমাজে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি নিরাপদ, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে তাদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

শেষে প্রধানমন্ত্রী আবারও সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad