৮১ ফুট রামমূর্তির উদ্যোক্তা হরিদাস এবার মানিলন্ডারিং মামলায় গ্রেপ্তার, ৪ দিনের রিমান্ড

  • শাহিন রেজা,মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ
  • আপলোড সময় : ১৩ জুলাই ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল
  • ১৭৭১৭ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে নির্মিত ৮১ ফুট উচ্চতার আলোচিত রামমূর্তির উদ্যোক্তা শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৩ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিপন হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) কে এম রাকিবুল হুদা আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী শ্যামল কুমার রায়, সুশান্ত অধিকারী ও বাসুদেব গুহ রিমান্ডের বিরোধিতা করে বলেন, মামলার অভিযোগে মানিলন্ডারিংয়ের সুনির্দিষ্ট কোনো বর্ণনা নেই। তাদের দাবি, হরিদাস চন্দ্র একজন ধর্মীয় ব্যক্তি এবং মন্দির নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ভক্তদের দেওয়া অনুদানই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে।

আদালতের অনুমতি নিয়ে হরিদাস চন্দ্র বলেন, “আমি একজন কৃষক ছিলাম, এখন মন্দির পরিচালনা করি। মন্দির করে যদি অপরাধী হই, তাহলে কিছু করার নেই।” তিনি আরও বলেন, ভক্তদের দেওয়া অর্থ যদি অন্য কোনো কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে, সেটি তদন্তে বেরিয়ে আসুক।

এ সময় বিচারক অর্থের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে হরিদাস চন্দ্র জানান, এসব অর্থ ভক্তদের অনুদান।

শুনানিকালে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের পরিবর্তে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন জানান। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে এবং নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে হরিদাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে হুন্ডির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তার নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের তথ্য মিলেছে। অর্থের উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার তদন্তে আরও বলা হয়েছে, হরিদাস চন্দ্রের নামে থাকা পাঁচটি ব্যাংক হিসাব ও চারটি এমএফএস অ্যাকাউন্টে বিভিন্ন সন্দেহজনক উৎস থেকে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব অর্থের লেনদেন মানিলন্ডারিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, হরিদাস চন্দ্র অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনের একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে যোগসাজশে হুন্ডির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচারে জড়িত ছিলেন। অর্জিত অর্থ বিভিন্ন মাধ্যমে রূপান্তর করে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ১২ জুলাই রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিআইডির একটি বিশেষ দল ঢাকায় অভিযান চালিয়ে হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তার করে। পরে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের হওয়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের কোমরপুর মধ্যরামচন্দ্রপুর (নয়াপাড়া) গ্রামের মৃত গোপীনাথ চন্দ্র তরনী দাসের ছেলে।

উল্লেখ্য, আলোচিত ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগের কারণে হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে আনা মানিলন্ডারিং ও অর্থ পাচারের অভিযোগের তদন্ত চলছে। অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad