বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নে মরক্কো—কোচ ওয়াহবির দৃঢ় বার্তা

  • প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স
  • আপলোড সময় : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩২ রাত
  • ২০২৩০ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

বিশ্বকাপে নিজেদের দুর্দান্ত অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে মরক্কো। শেষ ষোলোর ম্যাচে সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার প্রতিনিধিরা। তবে শেষ আটে ওঠাকেই সাফল্যের শেষ ধাপ হিসেবে দেখছেন না মরক্কোর প্রধান কোচ মোহামেদ ওয়াহবি। তার স্পষ্ট ঘোষণা, বিশ্বকাপে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নেমেছে তার দল।

কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া মরক্কো এবারও নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিচ্ছে। যদিও কানাডার বিপক্ষে ম্যাচের প্রথমার্ধে বেশ চাপে ছিল আটলাস লায়ন্সরা। স্বাগতিকদের উচ্চগতির প্রেসিং ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে বেশ কয়েকবার অস্বস্তিতে পড়ে মরক্কো।

তবে বিরতির পর সম্পূর্ণ বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। কৌশলগত পরিবর্তন, সংগঠিত ফুটবল এবং আক্রমণে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে দ্বিতীয়ার্ধে তিনটি গোল করে সহজ জয় নিশ্চিত করে মরক্কো।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কোচ মোহামেদ ওয়াহবি জানান, বিরতির সময় ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এরপরই দল নিজেদের ছন্দ ফিরে পায়।

ওয়াহবি বলেন, “প্রথমার্ধ ছিল খুবই কঠিন। কানাডা আমাদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিল। বিরতিতে কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করেছি এবং খেলোয়াড়দের ভিডিও বিশ্লেষণ দেখানো হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে সক্ষম হই।”

তবে কৌশলগত পরিবর্তনের পুরো বিষয়টি প্রকাশ করতে রাজি হননি মরক্কো কোচ। তিনি বলেন, “সামনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে, তাই সবকিছু বলা সম্ভব নয়। আমরা আমাদের ফুটবল দর্শন পরিবর্তন করিনি। কানাডার প্রেসিং মোকাবিলায় মিডফিল্ড ও গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনুকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করেছি। আমরা জানতাম তাদের রক্ষণভাগের পেছনে জায়গা তৈরি হবে এবং সেই সুযোগই কাজে লাগিয়েছি।”

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পরও আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ ওয়াহবি। তার মতে, মরক্কো এখন বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, তবে দলের লক্ষ্য আরও বড়।

তিনি বলেন, “মানুষ এখন মরক্কোকে বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে দেখছে। এটি আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। কিন্তু আমরা এখানেই থামতে চাই না। আমাদের লক্ষ্য আরও এগিয়ে যাওয়া এবং সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করা।”

কানাডার লড়াকু পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন মরক্কোর কোচ। তার ভাষায়, বিশ্বকাপের মতো আসরে কঠিন সময় আসবেই, আর সেই মুহূর্তে মানসিক দৃঢ়তাই পার্থক্য গড়ে দেয়।

তিনি বলেন, “বিশ্বকাপে সব সময় নিজের সেরা ফুটবল খেলা সম্ভব হয় না। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো কঠিন সময়েও ভেঙে না পড়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া। আমাদের খেলোয়াড়রা সেটিই করেছে এবং শেষ পর্যন্ত দারুণভাবে ম্যাচে ফিরেছে।”

তবে বড় জয়ের আনন্দের মধ্যেও দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারির চোট। প্রথমার্ধেই উরুতে ব্যথা অনুভব করে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।

ওয়াহবি জানান, “এখনও চিকিৎসকদের সঙ্গে বিস্তারিত কথা হয়নি। তার উরুতে ব্যথা রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরীক্ষার পর তার চোটের প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।”

দুর্দান্ত আত্মবিশ্বাস, কার্যকর কৌশল এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে এবারও বিশ্বকাপে বড় স্বপ্ন দেখছে মরক্কো। কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরিয়ে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে চলেছে আটলাস লায়ন্সরা।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad