ব্রাজিলের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘গ্লোবো’র বিখ্যাত শো ‘ডোমিঙ্গাঁও’-এ সম্প্রতি আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। সেখানেই তাকে চমকে দিয়ে স্ক্রিনে প্রচার করা হয় তার দাদি নিলজার একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা। শৈশবের স্মৃতি রোমন্থন করে দাদি নিলজা বলেন:
"ও (ভিনিসিয়ুস) ছোটবেলায় ভীষণ লাজুক একটা ছেলে ছিল। ফুটবলই ছিল ওর ধ্যান-জ্ঞান, ওর সবকিছু। এমনকি ১৬ বছর বয়স পর্যন্ত ও আমার পাশেই ঘুমাত।"
ভিডিওর শেষাংশে নাতির প্রতি দাদির নিখাদ আশীর্বাদ ও ভালোবাসা পুরো পরিবেশকে আবেগপ্রবণ করে তোলে। আবেগঘন কণ্ঠে নিলজা বলেন, "ভিনি, আমার আদরের নাতি, আমাদের ‘লেডি অব আপারেসিদা’ (ব্রাজিলের রক্ষাকর্তা দেবী) যেন সবসময় তোমাকে সুরক্ষিত রাখেন। তোমার দাদি তোমাকে অনেক, অনেক বেশি ভালোবাসে।"
দাদির এই হৃদয়স্পর্শী বার্তা দেখার পর আর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ভিনিসিয়ুস। কান্নায় ভেঙে পড়ে শৈশবের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, "আমার দাদি আমাদের সেই ছোট্ট বাড়িতে থেকেও আমার জন্য যতটা সম্ভব উজাড় করে দিয়েছেন, সব করেছেন। সেজন্যই আমি সবসময় তার পাশে ঘুমাতাম।"
পেশাদার ফুটবলের ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারকে কতটা প্রাধান্য দেন, সেটি উল্লেখ করে এই ব্রাজিলিয়ান তারকা আরও বলেন:
"তিনি (দাদি) আমার জীবন বদলে দিয়েছেন। তাই সুযোগ পেলেই আমি তার কাছাকাছি থাকার চেষ্টা করি। কারণ আমি জানি, একদিন আমাদের এই প্রিয় মানুষগুলো আর আমাদের মাঝে থাকবে না। আমি আমার দাদি এবং পরিবারের সবার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত মন থেকে উপভোগ করি। আজ আমি যেখানে এসেছি, আমার সেই স্বপ্ন পূরণে তারা নিজেদের সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছেন।"
আবেগের এই চোরাস্রোতের পাশাপাশি মাঠের পারফরম্যান্সেও কিন্তু উড়ছেন ভিনিসিয়ুস। চলতি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে রীতিমতো প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগকে গুঁড়িয়ে দিয়ে ৪টি গোল ও ১টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। জাপানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও সেলেসাওদের আক্রমণের মূল ভরসা এই ফরোয়ার্ড। নকআউটের এই বৈতরণী পার হতে পারলে ব্রাজিলের সামনে নিশ্চিত হবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট, আর ভক্তরা তাকিয়ে আছেন দাদির দোয়া সঙ্গী করে ভিনির পায়ে আরও একটি জাদু দেখার আশায়।

প্রথম দর্পণ,স্পোর্টস ডেক্স