রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় গভীর শোক, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ এবং হত্যার ধারাবাহিক ঘটনা জাতিকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত করে তুলেছে।
শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিববুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে নেতারা বলেন, একটি সভ্য, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্রে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সমাজে ভয় ও উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে। রামিসা হত্যাকাণ্ড সেই ভয়াবহ বাস্তবতার নির্মম প্রতিচ্ছবি।
তারা বলেন, অপরাধীদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা না গেলে সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের প্রতি জোর দাবি জানান তারা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন মর্মান্তিক পরিণতি শুধু একটি পরিবার নয়, সমগ্র জাতির বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। এ ধরনের পাশবিক ও মানবতাবিরোধী ঘটনা সভ্য সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক।
হেফাজত নেতারা নিহত শিশু রামিসার রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
তারা আরও বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের গাফিলতি, প্রভাব বা দীর্ঘসূত্রতা জনগণের ন্যায়বিচারের প্রত্যাশাকে ক্ষুণ্ন করবে। এমন দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ সংঘটনের সাহস না পায়।
বিবৃতিতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগে নৈতিক, ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কার্যকর সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক