মিড-ডে মিলে অনিয়ম রোধে ‘গার্ডিয়ান কমিটি’ গঠনের নির্দেশ, তদন্তেও কঠোর সরকার

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg

মিড-ডে মিলে অনিয়ম রোধে ‘গার্ডিয়ান কমিটি’ গঠনের নির্দেশ, তদন্তেও কঠোর সরকার

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ঠেকাতে বিদ্যালয়ভিত্তিক ‘গার্ডিয়ান কমিটি’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে নিম্নমানের খাবার বিতরণ, গাফিলতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তদন্তে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক জরুরি সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ নির্দেশনা দেন। সভায় মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা সূত্রে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে পচা বা কাঁচা কলা, নিম্নমানের বানরুটি এবং নষ্ট সেদ্ধ ডিম বিতরণের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয় সরকার। শিক্ষার্থীদের খাদ্যনিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে বিদ্যালয় পর্যায়ে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ‘গার্ডিয়ান কমিটি’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, কমিটিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ব্যবস্থাপনা কমিটির একজন সদস্য এবং তিনজন অভিভাবক মা সদস্য হিসেবে থাকবেন। শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহকৃত খাদ্যের মান, নিরাপত্তা ও বিতরণ কার্যক্রম তদারকিতে কমিটি কাজ করবে।

সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিড-ডে মিল কার্যক্রমে কোনো ধরনের অনিয়ম, গাফিলতি কিংবা মানহীনতা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, পুষ্টিকর ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার।

এ সময় তিনি পাঁচ দফা নির্দেশনা দেন। এর মধ্যে অনুমোদিত মান অনুযায়ী প্যাকেজিং নিশ্চিত করা, সরবরাহকারীর পরিচয় যাচাই বাধ্যতামূলক করা, সাব-কন্ট্রাক্ট বা উপ-ঠিকাদারি নিষিদ্ধ করা এবং নিয়মিত কারখানা পরিদর্শনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। নির্দেশনা অনুযায়ী সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা প্রতি মাসে অন্তত দুইবার আকস্মিক কারখানা পরিদর্শন করবেন।

এছাড়া মিড-ডে মিল কার্যক্রমে সংঘটিত অনিয়ম, গাফিলতি ও দুর্নীতির অভিযোগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়।

উল্লেখ্য, পুষ্টিহীনতা ও ক্ষুধাজনিত কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও মনোযোগে প্রভাব কমাতে গত বছরের সেপ্টেম্বরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু করা হয়। বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০ লাখ শিক্ষার্থী এ কর্মসূচির আওতায় খাবার পাচ্ছে। সপ্তাহজুড়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বানরুটি, সেদ্ধ ডিম, কলা, ইউএইচটি দুধ ও ফর্টিফায়েড বিস্কুট সরবরাহ করা হচ্ছে।




কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad