রায়গঞ্জে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ভুল রিপোর্ট ও অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান “সরকার ডায়াগনস্টিক এ্যান্ড নার্সিং হোম”-এর বিরুদ্ধে চিকিৎসাসেবার নামে ভুল রোগ নির্ণয়, অপচিকিৎসার ঝুঁকি সৃষ্টি ও নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
রায়গঞ্জ উপজেলার ওই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদন, দক্ষ জনবল ও আধুনিক পরীক্ষাগার সুবিধার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও রিপোর্ট প্রদান করা হচ্ছে। এতে অনেক ক্ষেত্রে ভুল রোগ নির্ণয়ের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ রোগীদেরও অপ্রয়োজনীয়ভাবে একাধিক পরীক্ষা করানো হচ্ছে। অনেক সময় পরীক্ষার ফলাফলে অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় রোগীরা পরবর্তীতে অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পুনরায় পরীক্ষা করাতে বাধ্য হচ্ছেন।
ভুক্তভোগী প্রদীপ হালদার জানান, গত ১২ মে ২০২৬ তারিখে তার ছেলে দীপ্ত হালদার জ্বর ও পেটব্যথা নিয়ে চান্দাইকোনার এক চিকিৎসকের কাছে গেলে তাকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য “সরকার ডায়াগনস্টিক এ্যান্ড নার্সিং হোম”-এ পাঠানো হয়।
তিনি বলেন,
“আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্টে বলা হয় আমার ছেলের অ্যাপেন্ডিসাইটিস হয়েছে এবং দ্রুত অপারেশন লাগবে। এতে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে ১৩ মে বগুড়ার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করালে জানা যায়, তার প্রস্রাবে ইনফেকশন হয়েছে। ভুল রিপোর্টে আমরা মারাত্মক মানসিক চাপে পড়ে যাই।”
তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, স্বাস্থ্যখাতে এ ধরনের অনিয়ম রোগীদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অনুমোদনহীন বা মানহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে “সরকার ডায়াগনস্টিক এ্যান্ড নার্সিং হোম”-এর মালিক কামরুল হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,
“আমরা পরীক্ষা করেছি, তবে অপারেশন করিনি।”
এ সময় তিনি নিজেকে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের সাংবাদিক বলেও পরিচয় দেন।
স্থানীয় চিকিৎসক ডা. সুকুমার বর্মণ বলেন, রোগীকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হয়েছিল। তবে রিপোর্ট ভুল হওয়ায় বিষয়টি দুঃখজনক এবং এটি রোগীর চিকিৎসায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক