এনসিপির নতুন কমিটিতে জামায়াতের প্রভাব, স্বতন্ত্র রাজনীতি হারানোর অভিযোগ রাশেদের

  • প্রথম দর্পণ,ডেস্ক
  • আপলোড সময় : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৩ বিকাল
  • ২৯৬৩ বার পড়া হয়েছে

Banner Ad
https://www.prothomdorpan.com/admin/fav-icon-logo/image/1761146741.250..125.jpg
কাউন্সিল ছাড়াই কমিটি গঠন নিয়ে প্রশ্ন; গুরুত্বপূর্ণ পদ বণ্টনে জামায়াতের অনুমোদন ছিল বলে দাবি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পুনর্গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তাঁর অভিযোগ, কাউন্সিল ছাড়াই কমিটি গঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদ বণ্টনে জামায়াতের প্রভাব থাকায় দলটির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন কমিটিকে জামায়াতের যুব শাখার সঙ্গে তুলনা করে তিনি দাবি করেছেন, এতে স্বতন্ত্র রাজনীতির পক্ষে থাকা নেতাদের কেউ কেউ পদাবনতির শিকার হয়েছেন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পোস্টে এনসিপির নতুন কমিটি নিয়ে এসব মন্তব্য করেন রাশেদ খান।

কাউন্সিল ছাড়াই কমিটি গঠন নিয়ে প্রশ্ন

রাশেদ খান তাঁর পোস্টে বলেন, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্ন দেখিয়ে গড়ে ওঠা এনসিপি কোনো ধরনের কাউন্সিল ছাড়াই নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে। তাঁর মতে, গণতন্ত্রের কথা বলা এবং অন্য দলের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা একটি দলের কাউন্সিল ছাড়া কমিটি গঠন সাংগঠনিক দুর্বলতা ও নেতৃত্ব কুক্ষিগত করার প্রবণতা প্রকাশ করে।

জামায়াতের অনুমোদনের অভিযোগ

এনসিপির নতুন কমিটি গঠনে জামায়াতের প্রভাব ছিল বলে দাবি করেন রাশেদ খান। তাঁর ভাষ্য, জামায়াতের পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ ও কম গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে দলটির ভেতরে যারা স্বতন্ত্র রাজনীতির পক্ষে অথবা জামায়াতের বিরোধী অবস্থানে রয়েছেন, তাঁদের পদাবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া বিভিন্ন বিতর্কে জড়িত এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের শীর্ষ পদে বসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন রাশেদ খান। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে তিনি পোস্টে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরেছেন কি না, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।

নতুন কমিটি নিয়ে অসন্তোষের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, সব মিলিয়ে এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটি জামায়াতের যুব শাখার মতো হয়ে উঠেছে বলে বঞ্চিতদের মধ্যে অভিযোগ রয়েছে।

গঠনতন্ত্র ও নেতৃত্বের মেয়াদ নিয়েও প্রশ্ন

এনসিপির গঠনতন্ত্রের উল্লেখ করে রাশেদ খান বলেন, দলটির বিধান অনুযায়ী কেউ দুইবারের বেশি সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক থাকতে পারবেন না। এ প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের বর্তমান মেয়াদই শেষ মেয়াদ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তাঁর মতে, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এনসিপির নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নতুন কমিটি গঠনের ধরন সেই প্রত্যাশা পূরণ নিয়ে সংশয় তৈরি করেছে।

স্বতন্ত্র রাজনীতি নিয়ে শঙ্কা

রাশেদ খান মনে করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এনসিপি নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে পারলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু নতুন কমিটির কাঠামো দেখে তাঁর ধারণা হয়েছে, আসন ও নির্বাচনী ব্যয়ের সমঝোতার বিনিময়ে দলটি জামায়াতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, এর ফলে এনসিপির স্বতন্ত্র রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। দলটির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে রাশেদ খানের এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মূল্যায়ন ও অভিযোগ। কমিটি গঠনে জামায়াতের অনুমোদন, পদ বণ্টনে প্রভাব কিংবা নির্বাচনী সমঝোতা-সংক্রান্ত দাবিগুলো এনসিপি বা জামায়াতের বক্তব্য দিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।





কমেন্ট করুন:

ফেসবুকে আমরা
সর্বশেষ সংবাদ
Sidebar Ad