সম্প্রতি অর্থ বিভাগের ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতের বরাদ্দ থেকে এ অর্থ ছাড়ের অনুমোদন দিয়ে ডেবিট অথরিটি জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অর্থ বিভাগের নির্ধারিত শর্ত অনুসরণ করে প্রণোদনার অর্থ বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যেসব খাতে মিলবে প্রণোদনাএ বরাদ্দ থেকে মাছ, হিমায়িত চিংড়ি ও অন্যান্য সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য, চামড়াজাত পণ্য, দেশি বস্ত্রসহ অনুমোদিত বিভিন্ন রপ্তানি খাতে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ ১ শতাংশ নগদ সহায়তা কর্মসূচির অর্থও এ বরাদ্দ থেকে দেওয়া হবে। এ ছাড়া সরকারের নগদ প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পাট ও পাটজাত পণ্যসহ রপ্তানিমুখী বিভিন্ন খাত রয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধে, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সহায়তা কর্মসূচি কার্যকর থাকবে। রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা এবং রপ্তানিকারকদের সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এ প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পোশাক ও চামড়াজাত পণ্যে রপ্তানি বেড়েছেরপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে ৩০৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। আগের বছরের একই মাসে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৮৪ কোটি ডলার। সে হিসাবে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
গত সেপ্টেম্বরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে ১১ কোটি ডলারের, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে এ খাতে রপ্তানি হয়েছিল ৯ কোটি ডলারের পণ্য।
পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২২ দশমিক ৭২ শতাংশ। গত মাসে এ খাতে রপ্তানি হয়েছে ৯ কোটি ডলারের পণ্য। আগের বছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ৪৩ লাখ ডলার।
তবে কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি কমেছে। গত সেপ্টেম্বরে এ খাতে রপ্তানি হয়েছে ৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলারের পণ্য, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২১ দশমিক ৭০ শতাংশ কম। অন্যদিকে হোমটেক্সটাইল পণ্য রপ্তানি হয়েছে ৭ কোটি ৬৭ লাখ ডলারের, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ বেশি।
৪৩ পণ্যে প্রণোদনার হার অপরিবর্তিতঅর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানি খাতে নগদ প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য ৪৩টি নির্ধারিত রপ্তানি পণ্যে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত হারে নগদ প্রণোদনা দেওয়া হবে। খাতভিত্তিক আওতা ও প্রণোদনার হার আগের অর্থবছরের মতোই বহাল রয়েছে।
তথ্যসূত্র: রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য।

প্রথম দর্পণ,ডেস্ক