স্থানীয়রা জানান, একটি পাগলা শিয়াল ওই এলাকাগুলোতে ঘোরাফেরা করে পথচারী ও বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে অন্তত ২০ জনকে কামড়ে আহত করে। কয়েকটি গবাদি পশুকেও কামড়েছে শিয়ালটি।
আহতদের মধ্যে রয়েছে দীন ইসলাম (৯), আলমাস (৪০) ও তরু শীলের মা (৭২)। এ ছাড়া সুলতান মিয়ার গরু-ছাগলও শিয়ালের কামড়ে আহত হয়েছে। আহতদের হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের ক্ষত রয়েছে। তারা কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে জলাতঙ্কের টিকা ও চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, চিকিৎসকেরা আক্রান্তদের পাঁচটি করে টিকার ডোজ সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
তরু শীল বলেন, রাতে হঠাৎ একটি শিয়াল এসে তাঁর বৃদ্ধ মাকে কামড় দেয়। ঘটনার পর ভাল্লুকবেড় ও পামওয়েল এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাতে অনেকে ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন। কৃষকেরাও মাঠে যেতে পারছেন না। গবাদি পশু নিয়েও উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সবুর বলেন, এভাবে শিয়ালের কামড়ে মানুষ আহত হওয়ার ঘটনা আগে দেখেননি। দ্রুত উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস ও বন বিভাগের লোকজনকে ঘটনাস্থলে এসে শিয়ালটি ধরার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা সোরহাব আলী বলেন, শিয়ালের উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকার লোকজন তিনটি শিয়াল পিটিয়ে হত্যা করেছে।
কালিয়াকৈর ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা তাওসিফ জামান বলেন, ‘বন্য প্রাণী আমাদের জাতীয় সম্পদ। কেউ শিয়ালসহ কোনো বন্য প্রাণী হত্যা করবেন না। স্থানীয়দের সহযোগিতায় শিয়ালটি ধরার চেষ্টা করা হবে।’
কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুনমুন বলেন, জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক রোগ। শিয়ালের কামড়ে আক্রান্তদের দ্রুত টিকা নিতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত টিকার ব্যবস্থা রয়েছে।
চিকিৎসকেরা জানান, কুকুর বা শিয়ালের কামড়ের পর দ্রুত সাবান ও পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ক্ষতস্থান ধুয়ে ফেলতে হবে। এরপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জলাতঙ্কের টিকা নেওয়া জরুরি। যথাসময়ে চিকিৎসা না নিলে জলাতঙ্কে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুও হতে পারে।

মোঃ রায়হান চৌধুরী,(নিজস্ব প্রতিবেদক)