প্রিলিমিনারির পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা; বদলাতে পারে সিলেবাস ও নম্বর বণ্টনবেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আগামী ডিসেম্বরে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর এ পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। নতুন পরীক্ষাপদ্ধতিতে প্রচলিত প্রিলিমিনারি ও মৌখিক পরীক্ষার পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষা যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। সেই সঙ্গে পরিবর্তন আসতে পারে সিলেবাস ও নম্বর বণ্টনেও।এনটিআরসিএ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলছে। আগামী ৯ ডিসেম্বর এ পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং বিধিমালা সংশোধনের পরই পরীক্ষার তারিখ ও পদ্ধতি চূড়ান্ত হবে।তিন ধাপে পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তাবপ্রস্তাবিত পদ্ধতি অনুযায়ী, নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রথম ধাপে থাকবে ১০০ নম্বরের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) পরীক্ষা। এর সময় নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে এক ঘণ্টা। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য এক নম্বর দেওয়া হবে। ভুল উত্তরের জন্য কাটা যাবে শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর। এ ধাপে পাসের জন্য ন্যূনতম ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা দ্বিতীয় ধাপে ১০০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এ পরীক্ষার সময় নির্ধারণের প্রস্তাব তিন ঘণ্টা। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের তৃতীয় ধাপে ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।চার বিষয়ে ১০০ নম্বরের প্রিলিমিনারিপ্রস্তাবিত সিলেবাসে বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও সাধারণ জ্ঞান—এই চারটি বিষয় রাখা হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ে ২৫ নম্বর করে মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।তবে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পদ্ধতি, নম্বর বণ্টন এবং সিলেবাস এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিধিমালা সংশোধন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।নিবন্ধন থেকে সরাসরি নিয়োগে পরিবর্তননতুন পরীক্ষায় নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। এবার নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে শুধু প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের পরিবর্তে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। এ কারণে আগের ধারাবাহিকতায় পরীক্ষাটিকে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা না বলে নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।সর্বশেষ ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল ২০২৩ সালের ৪ নভেম্বর। এর প্রায় চার মাস পর ২০২৪ সালের মার্চে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ বিরতির পর এবার নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।