ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌর শহরে ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে ফের সংঘর্ষ, ধাওয়া-পালটাধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেল থেকে চলা এ সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়।শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল থেকে কসবা পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের লোকজনকে লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছোড়ে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।আহতদের মধ্যে রয়েছেন মোহনা টেলিভিশনের কসবা উপজেলা প্রতিনিধি হারুনুর রশীদ ঢালী (৬০), মঈনপুর গ্রামের আশরফ আলীর ছেলে ইব্রাহিম (৪৮), বিনাউটি গ্রামের বাছির মিয়ার ছেলে সালমান (৩২), বায়েক গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে বাবু (৩০), আড়াইবাড়ি গ্রামের রাশেদ মিয়ার ছেলে সফিকুল ইসলাম (৩৪) এবং কুটি ঘড়িপুর গ্রামের জীবন মুন্সির ছেলে সাকিব (১৮)। আহতদের কয়েকজন বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। ফলে আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে এ উত্তেজনা ও সংঘর্ষের সূত্রপাত। তবে সংঘর্ষের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দুই পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাতজানা গেছে, গত ১ নভেম্বর সিরাজুল হক ইমুকে সভাপতি করে কসবা উপজেলা ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষণা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রদল। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই পদবঞ্চিত একটি পক্ষ এর প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিল।এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কসবা পৌর সুপার মার্কেট এলাকায় নতুন কমিটির আনন্দ মিছিলকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত চারজন আহত হন।ওই ঘটনার পর নবগঠিত উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি সিরাজুল হক ইমু জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের নির্দেশে তাঁদের আনন্দ মিছিলে হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।পুলিশের বক্তব্য নিয়ে অস্পষ্টতাএর আগে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানিয়েছিলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।এদিকে সংঘর্ষ চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণ ও পুলিশের ফাঁকা গুলির শব্দ শোনা যাওয়ার কথা স্থানীয়রা জানালেও কসবা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশীদ ককটেল বিস্ফোরণ ও ফাঁকা গুলির বিষয়টি অস্বীকার করেন।শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে থেমে থেমে ধাওয়া-পালটাধাওয়া চলছিল এবং ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। সংঘর্ষের সময় ওসি আলী মোহাম্মদ রাশেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে সর্বশেষ পরিস্থিতি ও পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।