প্রি-ডায়াবেটিস ও ডায়াবেটিস শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ তিন পরীক্ষা, কোন মাত্রায় সতর্ক হবেনডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে বাড়িতে গ্লুকোমিটারের সাহায্যে নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করছেন অনেকে। তবে দিনের সব সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা এক থাকে না। খাবার, শারীরিক পরিশ্রম, ঘুম ও মানসিক চাপের ওপরও এর ওঠানামা নির্ভর করে।চিকিৎসকদের মতে, শুধু একবার রক্তে শর্করা পরীক্ষা করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায় না। খালি পেটে, খাবারের দুই ঘণ্টা পর এবং গত তিন মাসের গড় শর্করার মাত্রা নির্ণয়ের পরীক্ষার মাধ্যমে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা জরুরি।খালি পেটে ও খাবারের পর সুগারের মাত্রাখালি পেটে রক্তে শর্করা পরীক্ষাকে ফাস্টিং ব্লাড সুগার বা এফপিজি বলা হয়। এ পরীক্ষা করার আগে অন্তত আট ঘণ্টা কোনো খাবার গ্রহণ করা যাবে না। এতে খাবার ছাড়া অবস্থায় শরীর কীভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করছে, তার ধারণা পাওয়া যায়।অন্যদিকে, খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা হয়, যা পোস্ট-প্র্যান্ডিয়াল টেস্ট নামে পরিচিত। এ পরীক্ষায় খাবার থেকে উৎপন্ন গ্লুকোজ শরীর কতটা কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে, তা বোঝা যায়।ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ আশিস মিত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রক্তে শর্করার মাত্রার শ্রেণিবিভাগ হলো—খালি পেটে রক্তে শর্করা:১১০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে: স্বাভাবিক।১১০ থেকে ১২৫ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার: প্রি-ডায়াবেটিস।১২৬ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার বা বেশি: ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত।খাবারের দুই ঘণ্টা পর রক্তে শর্করা:১৪০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে: স্বাভাবিক।১৪০ থেকে ১৯৯ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার: প্রি-ডায়াবেটিস।২০০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার বা বেশি: ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত।তিন মাসের গড় সুগার নির্ণয়ে এইচবিএ১সিরক্তে শর্করার দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা বুঝতে এইচবিএ১সি পরীক্ষা করা হয়। এ পরীক্ষার মাধ্যমে গত প্রায় তিন মাসের গড় গ্লুকোজের মাত্রা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।এর ফলাফল অনুযায়ী—৫ দশমিক ৭ শতাংশের নিচে: স্বাভাবিক।৫ দশমিক ৭ থেকে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ: প্রি-ডায়াবেটিস।৬ দশমিক ৫ শতাংশ বা বেশি: ডায়াবেটিসের ইঙ্গিত।কোন মাত্রায় সুগার রাখা ভালো?চিকিৎসক আশিস মিত্রের পরামর্শ অনুযায়ী, সাধারণভাবে খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা ৯০ থেকে ১১০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার এবং খাবারের পর ১৪০ থেকে ১৬০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা উচিত।তিনি বলেন, বাড়িতে যাঁরা নিয়মিত সুগার পরীক্ষা করেন, তাঁদের প্রতিদিন শুধু একবার পরীক্ষা করলে চলবে না। বিভিন্ন সময়ে এবং বিভিন্ন বেলার খাবারের পর পরীক্ষা করা প্রয়োজন।কারণ, কারও খালি পেটে ও খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও এইচবিএ১সি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি হতে পারে। এর কারণ হতে পারে, সকালের নাশতা বা রাতের খাবারের পর রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া, যা এক বেলার পরীক্ষা করে ধরা পড়ে না।তাই দিনের বিভিন্ন সময়ে রক্তে শর্করার ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন বেলার খাবারের দুই ঘণ্টা পর পরীক্ষা করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।সুগার কমে গেলেও বিপদের আশঙ্কারক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত কমে যাওয়াও বিপজ্জনক। চিকিৎসকের মতে, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৭০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারে নেমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। এ অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।তবে সবার জন্য রক্তে শর্করার লক্ষ্যমাত্রা এক নয়। বয়স, শারীরিক অবস্থা, ডায়াবেটিসের ধরন ও ব্যবহৃত ওষুধের ওপর ভিত্তি করে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হয়। তাই পরীক্ষার ফলাফল অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।