একজন পুরুষের জন্য নিজের স্ত্রীর আপন বোনকে একই সময়ে বিয়ে করা ইসলামী শরিয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তার বোনকে বিয়ে করলে সেই বিয়ে শরিয়তসম্মত হবে না। পবিত্র কোরআনে স্পষ্টভাবে একই সময়ে দুই বোনকে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।সম্প্রতি এক পাঠকের প্রশ্নের জবাবে ইসলামী শরিয়তের বিধান তুলে ধরে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।প্রশ্নে বলা হয়, একজন পুরুষ তার স্ত্রীর আপন বোনকে নিয়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে সংসার করছেন। তবে ওই বোনকে বিয়ের আগে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেননি। এ অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ের বৈধতা কী?এর উত্তরে বলা হয়েছে, এ ধরনের বিয়ে হারাম। একজন পুরুষের জন্য একই সময়ে দুই বোনকে স্ত্রী হিসেবে রাখা শরিয়তে নিষিদ্ধ।পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহতায়ালা যেসব নারীকে বিয়ে করা নিষিদ্ধ করেছেন, তাদের তালিকায় একসঙ্গে দুই বোনকে বিয়ের বিষয়টিও উল্লেখ করেছেন। আয়াতে বলা হয়েছে, ‘আর তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে একসঙ্গে দুই বোনকে বিয়ে করা।’ইসলামী আইনশাস্ত্রের বিশিষ্ট ব্যাখ্যাকার ইমাম কুরতুবি (রহ.) তাঁর আল-জামি লি-আহকামিল কোরআন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, এই আয়াতের ভিত্তিতে মুসলিম উম্মাহ সর্বসম্মতভাবে একই ব্যক্তির জন্য দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা নিষিদ্ধ বলে স্বীকৃতি দিয়েছে।এ বিষয়ে সৌদি আরবের স্থায়ী ফতোয়া কমিটির আলেমরাও জানিয়েছেন, একই সময়ে দুই বোনকে বিয়ে করা কোরআন ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট দলিল অনুযায়ী হারাম। বোন দুটি সহোদরা, বৈপিত্রেয় কিংবা বৈমাত্রেয়—যে সম্পর্কেরই হোক না কেন, এ বিধান প্রযোজ্য। একইভাবে রক্তের সম্পর্কের বোন কিংবা দুধসম্পর্কের বোনের ক্ষেত্রেও এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর।ফতোয়া কমিটির বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিধানের বিষয়ে সাহাবি, তাবেঈ ও সালাফদের মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। ইবনে মুনজিরও এ বিষয়ে মুসলিম আলেমদের ঐকমত্যের কথা উল্লেখ করেছেন।সুতরাং, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় তাঁর আপন বোনকে বিয়ে করা ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বৈধ নয়।